
হাবলু-হাসান শওকত সিন্ডিকেটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলে সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম, ভুয়া পরিমাপ দেখিয়ে বিল উত্তোলন ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী) মো. হাসান শওকত। তার সঙ্গে ‘হাবলু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে।
নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজ সম্পন্ন না হলেও মেজারমেন্ট বুক (এমবি) ও অন্যান্য নথিতে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থের বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
১০ তলার বিল, ভবন আট তলায়
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ‘বিল্ডার্স-সিডব্লিউবিডি জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালের ১৩ জুন ভবনের নবম ও দশম তলার বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার চলতি বিল পাস করা হয়।
এমবির ৪৬ থেকে ৯৪ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যালোচনায় নবম ও দশম তলার ছাদ ঢালাই, মেমব্রেন ওয়াটারপ্রুফিং, দেয়ালের ওয়াটারপ্রুফিং, সাটারিং, পিলার, লিন্টেল ও রডসহ বিভিন্ন কাজের বিপরীতে বিল দেখানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সরেজমিনে ভবনটি আট তলা পর্যন্ত নির্মিত অবস্থায় দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী হাসান শওকতের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ভুয়া বিলের অভিযোগ
হাসান শওকত যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ লোড বৃদ্ধি ও সংস্কারকাজে প্রায় ১১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ না করেই ধাপে ধাপে প্রায় পুরো অর্থের বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয় তলা ভবন নির্মাণের কার্যাদেশের বিপরীতে কোনো কাজ না করেই ১০ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে আনোয়ারা বেগম মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে কাজ ছাড়াই প্রায় ১৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাকরিজীবনে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনের সময় হাসান শওকত ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জমি, প্লট, ফ্ল্যাট ও ভবনসহ বিপুল সম্পদ গড়ে ওঠে। খুলনার ডুমুরিয়া ও দিঘলিয়া, মেহেরপুর সদর, মাগুরা সদর এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট ও দক্ষিণখান এলাকায় সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
মেহেরপুরে বিভিন্ন খতিয়ানে ১০৫ শতকের বেশি জমি এবং দক্ষিণখান এলাকায় নিজ ও স্ত্রীর নামে ১০ তলা ভবনসহ মোট ১৮৪ দশমিক ৩৩ শতক জমি ও রিসোর্টের মালিকানার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও মালিকানা যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয়ের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত, সম্পদের উৎস যাচাই এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।