
কক্সবাজারে সুগন্ধায় সরকারী জমি দখলমুক্ত করল প্রশাসন!
মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ, কক্সবাজার
কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোনের সুগন্ধায় কয়েকশো কোটি টাকার সরকারি খাস জমি দখলের একদিন পরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন জেলা প্রশাসন।
রবিবার (১৬ আগস্ট ) বিকেল ৫টায় এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন, কক্সবাজার পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুর রহমান সায়েম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার রাতে সুগন্ধায় সরকারি জমি দখলের খবর পেয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সমস্ত ঘেরাও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি দখল করে কেউ পার পাবে না। যাঁরা এই দখলের সাথে জড়িত তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দখলমুক্ত জায়গায় জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড তোলা হয়েছে। পরবর্তীতে কেউ দখলের চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা প্রশাসনের সাথে পুলিশ, আনসার, পুলিশ, বিচ কর্মী ও পৌরসভার পক্ষে শ্রমিকরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। বিকেল ৫ টায় শুরু হওয়া অভিযান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসময়ে মধ্যে ৩ একরের মত সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসন। মালামাল নেওয়ার জন্য নিয়োজিত ছিলেন পৌরসভার দুটি ডাম্পার। গুঁড়িয়ে দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত টিন, বেড়া ও বাঁশ গাড়ি করে পৌরসভায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় সড়কের দু’পাশে উৎসুক জনতার ভীড় জমে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাতে জায়গাটি বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘেরাও করে। তখন থেকে উশৃংখল কিছু যুবক রাজনৈতিক দলের নেতার পরিচয় দিয়ে আসছে। তারা ঘেরাও দেওয়ার পর দিনরাত পাহারা দেয়। তাঁদের সাথে তিনজন মহিলাও ছিলেন। তাঁদের সম্পর্কে গণমাধ্যমে কিছু বললে পরিনতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দেয়। তাঁদের দলীয় পরিচয় ও নাম জানলেও সাহস করে কেউ তাঁদের নাম জানাতে অনিচ্ছুক।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি জমি সরকারের হেফাজতে রাখা উচিত। কক্সবাজারে খাস খতিয়ানের অনেক দামি জমি উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
গত শনিবার মধ্যরাতে সুগন্ধায় ১০ একরের সরকারি জমি একদল যুবক ৩০-৪০ জন শ্রমিক দিয়ে দখল করে। যার বর্তমান বাজার ৫০০ কোটি টাকাও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরের দিন জায়গা ঘেরাও দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। বিকেলে হকারদের সাথে দখলদারের মধ্যে তুমুল তর্ক হয়। এক পর্যায়ে হকারেরা সংঘবদ্ধ হয়ে ১০০ ফুটের মত টিনের ভেড়া ভেঙে দেয়। ওইদিন রাতে আরেকদফা ভাংচুর চালায় হকারেরা। এক পর্যায়ে হকার ও দখলবাজরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। যেকোনো মুহূর্তে দু’পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। অবশেষে রবিবার বিকেলে উচ্ছেদ করে একরের মত সরকারি জমি দখলমুক্ত করেন জেলা প্রশাসন।