শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা:ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

চাটখিলে ভূমি অফিস প্রভাবিত করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা: লতিফ ও তহশিলদারের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ

আবুল কালাম আজাদ,চাটখিল (নোয়াখালী) 
নোয়াখালীর চাটখিলে নিজেকে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ভূমি অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রভাবিত করে পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তি দখলের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আব্দুল লতিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাটখিল পৌর ভূমি অফিসের তহশিলদার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধেও সরাসরি ঘুষ দাবি এবং বিএস খতিয়ান জালিয়াতির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগটি গত ০৬ আগষ্ট ইউএনও কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, চাটখিল মৌজার বি.এস ৯৩নং খতিয়ানভুক্ত ও ৪৭৯নং দাগের নালিশি সম্পত্তি ভুক্তভোগীরা জন্মলগ্ন থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। উক্ত সম্পত্তির ওপর ভিত্তি করে ভুক্তভোগীদের নামে ২০২৬-১০০০৩১, ২০২৬-১০০০৩২ এবং ২০২৬-১০০০৩৩ নং ধাতুপত্র সুজন হয়, যা তহশিলদার কর্তৃক প্রস্তাবের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে খতিয়ান সুজনের আবেদন (আবেদন নং- ১০৯০০৯৬০, ৮১১৫/২৬-২৭) করা হলে খসড়া খতিয়ান সৃজিত হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, খতিয়ান চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ সরকারি দপ্তরে অসাধু উপায়ে লেনদেন করে তাঁর স্ত্রী, শালী ও অন্যান্য অংশীদারের নামে অতিরিক্ত জমি খতিয়ানভুক্ত করিয়ে নেন। এ অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি মিস কেস (নং- ০১/২৬-২৭) দায়ের করেন। আইনগত প্রক্রিয়া ও শুনানি চলমান থাকা অবস্থাতেই গত ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে আব্দুল লতিফ ৩৫৮০নং নতুন দলিল সম্পাদন করে আইনকানুনের প্রতি চরম বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন।

ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষায় ভুক্তভোগীরা তাঁদের হিস্যা অনুযায়ী একাধিক হেবাঘোষণা দলিল (দলিল নং- ২৮১৬, ২৮১৭, ২৮১৮, ২৮১৯, ২৮২০ ও ২৮২১) সম্পাদন ও জমাখারিজের পুন:-খতিয়ান আবেদন করলে, আব্দুল লতিফ চাটখিল পৌর ভূমি অফিসের তহশিলদার হুমায়ুন কবির ও কতিপয় দালালের যোগসাজশে পাল্টা মিস কেস দায়ের করান। শুধু তা-ই নয়, তদন্তকালীন লতিফ প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেন, “সরকারি সকল অফিস আমার হাতের মুঠোয়।”

অভিযোগে তহশিলদার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে মারাত্মক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তহশিলদার হুমায়ুন কবির লতিফ গংদের পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সরাসরি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এমনকি ভুক্তভোগীরা ১ লাখ টাকা দিতে পারলে রিপোর্ট তাঁদের পক্ষে দেওয়ারও সুবিধাবাদী প্রস্তাব প্রদান করেন তিনি।

তাছাড়া আবেদনের তথ্যমতে, গত ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে আব্দুল লতিফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পিয়ন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ গ্রহণ করে কাজ না করার’ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারের মতে, উক্ত অভিযোগের মাধ্যমেই লতিফ নিজে অসাধু উপায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান ও প্রভাবিত করার বিষয়টি স্বহস্তে স্বীকার করেছেন।

এ অবস্থায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের চেষ্টাকারী আব্দুল লতিফকে গ্রেপ্তার এবং সরাসরি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবিকারী চাটখিল পৌর তহশিলদার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোকিয়া বেগম, সহিদা বেগম ও গোলাম সারওয়ার রিমনসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগটির অনুলিপি নোয়াখালী-০১ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরও প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাটখিল পৌর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ন কবির এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।
এব্যাপারে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews