শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

কৃত্রিম বন্যা:১০ গ্রাম প্লাবিত : বসতবাড়ি বিধ্বস্ত পাহাড় ধস: আহত ৬

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

কক্সবাজারে ভারি বর্ষণে কৃত্রিম বন্যা:১০ গ্রাম প্লাবিত : বসতবাড়ি বিধ্বস্ত , সড়কের উপর পাহাড় ধস: আহত ৬

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার

কক্সবাজারে ভারি বর্ষণে আবার কৃত্রিম বন্যা বা জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক শিশু পাহাড় চাপাপড়ে নিহত হয়েছে। ৫ টি বসতঘরে মাটিচাপা পড়ে বিধ্বস্ত হয়। মেরিন ড্রাইভ সড়কের তিনটি স্পটে পাহাড় চাপাপড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপর দিকে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থ কক্সবাজার সদর উপজেলা গেইট থেকে রূমালীছড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের উপর কাদামাটি জলে সয়লাব হওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টির মাত্রা কমে আসায় উপজেলা পরিষদ, সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা মিলে সড়কের উপর জমে থাকা কাঁদামাটি সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। এই দৃশ্য শহরের প্রধান পর্যটন জোন কলাতলী সড়ক ও ঢুবে গেছে ভারি বর্ষণে। ফলে পর্যটকেরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। কক্সবাজার সদরের পিএমখালী,ঝিলংজা, রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং ও উখিয়ার পালংখালীর ইউপির হাকিমপাড়া, থাইংখালীসহ ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো পানি বন্দি রয়েছে। সেখানে ২ ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।


কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন অব্যাহত পাহাড় কাটার ফলে বৃষ্টির পানিতে কাঁদামিশে সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রধান সড়কের উপর কাঁদাজল মিলেমিশে একাকার হয়েছে। যে কারণে বেড়েছে জনদূর্ভোগ।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার বলেন, একদিকে পাহাড় কাটা , অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ময়লা আবর্জনায় ছড়া, খাল ভরাট অপরিকল্পিত বসতির কারণে যে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এটাকে আমি বন্যা বলতে পারি না।এটি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা।


পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নের ৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়কের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক, একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। একজন রোহিঙ্গা শিশু মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছে। বিশেষ করে নাফনদীর কিনারা ঘেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ দিয়েছে, সেখানে পানি নিস্কাসনের জন্য যে সুইসগেইট বসানো হয়েছে তার প্রস্ত একেবাবে সরু। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে সময় নিচ্ছে।এ কারণে জলাবদ্ধতা বা কৃত্রিম বন্যা দেখা দিয়েছে।

ভারিবর্ষণ অব্যাহত থাকায় বেড়েছে জনদূর্ভোগ। গত মাসে ভয়াবহ বন্যার ক্ষতচিহ্ন মুছে যাবার আগে আবার প্লাবিত হয়েছে কক্সবাজারের ১০ গ্রাম।

কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পর্যটকসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ধসের মাটি সড়কে চলাচল করা একটি অটোরিকশার ওপর পড়েছিল। এতে ওই অটোরিকশায় থাকা ছয়জন আহত হন। তাঁদের একজন কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। পাহাড়ধসের কারণে প্রায় ৬ ঘণ্টা মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাটি ও গাছপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের মধ্যে পর্যটকসহ তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী এসব তথ্য জানান।

আজ সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে ৮০ থেকে ৯০ ফুট উঁচু পাহাড়ের একটি অংশ গাছসহ ধসে সড়কের ওপর পড়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা খননযন্ত্র দিয়ে সড়ক থেকে মাটি ও গাছপালা সরানোর কাজ করেছেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে কয়েকশত যানবাহন আটকা ছিল দীর্ঘ ৭/৮ ঘন্টা । এসব যানবাহনের যাত্রীদের বেশির ভাগই পর্যটক।

দরিয়ানগরের বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী মমতাজ আলম বলেন, পাহাড়ধসের সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হিমছড়ির দিকে যাচ্ছিল। ধসে পড়া মাটির কিছু অংশ ইজিবাইকের ওপর পড়ে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দৈর্ঘ্য ৮৪ কিলোমিটার। সড়কের পূর্ব পাশে পাহাড় এবং পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগর। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আজও বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আঃ মান্নান বলেন, বৃষ্টিপাত আরো ৩/৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।তাই নীচু ও উচু পাহাড়ে বসবাস কারীদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে বারবার নোটিশ করা হচ্ছে। বর্ষার এ মৌসুমে যে কোন দূর্যোগ মোকাবিলায় মনিটরিং সেল খোলা রয়েছে। দমকল বাহিনী, হাসপাতাল, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ও কাজ করছে জেলা প্রশাসন।###

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews