
শ্রাবণ সন্ধ্যায় ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
তরিকুল ইসলাম, কূটনৈতিক :
ভারতের হাইকমিশন, ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) আয়োজিত ‘**শ্রাবণ সন্ধ্যা**’ শীর্ষক এক মনোমুগ্ধকর বর্ষা-সন্ধ্যার সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতের হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বর্ষাকালের সৌন্দর্য, প্রকৃতি এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্য-সংগীতের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে উদযাপন করা হয়। কবি, সাহিত্যিক ও সংগীতজ্ঞদের সৃষ্টিতে শ্রাবণের যে গভীর আবেগ, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মানবিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, তারই প্রতিফলন দেখা যায় সযত্নে নির্বাচিত পরিবেশনায়। অনুষ্ঠানে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও সংগীতগুরু **অনিল কুমার সাহা** এবং তাঁর শিষ্য, প্রখ্যাত শিল্পী **অলোক কুমার সেন**। পরে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ **ড. চঞ্চল খান**। সংগীতগুরু অনিল কুমার সাহা দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর হাত ধরে দেশের বহু গুণী সংগীতশিল্পী গড়ে উঠেছেন, যার মধ্যে অলোক কুমার সেন অন্যতম। শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরিতে তাঁর অবদান সংগীতাঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত। অলোক কুমার সেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সংগীতের একজন স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী। গজল, রবীন্দ্রসংগীত এবং আধুনিক বাংলা গানের পরিবেশনায় তিনি দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বৈচিত্র্যময় সংগীতভাণ্ডার ও মুগ্ধকর পরিবেশনার জন্য তিনি সংগীতপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত। ড. চঞ্চল খান বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের আবেগঘন পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রসারে তাঁর অবদান তাঁকে এ ধারার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা বর্ষাকে কেন্দ্র করে বাংলা ও হিন্দি ভাষার একাধিক শাস্ত্রীয়, রবীন্দ্র ও আধুনিক সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় বর্ষার নান্দনিকতা, প্রকৃতির আবেশ এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বন্ধন জীবন্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মনোমুগ্ধকর এই সংগীতসন্ধ্যা উপভোগ করেন। ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) জানায়, সাংস্কৃতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারে তারা নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করে থাকে। ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই একটি অংশ, যা সংগীতের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।