সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
​হাবিপ্রবিতে ৫ দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা কর্মশালা শুরু সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ​মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি ও কেয়ারারদের মর্যাদা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভারতের সারনাথ বৌদ্ধ প্রত্নস্থল কালিহাতীতে তিন কিশোরকে আটকে রেখে বিকাশে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ডুয়েট ছাত্রকে অপহরণের পর মামলা নিতে পুলিশের ‘টালবাহানা! হাবিব উন নবী খান সোহেলকে ভবিষ্যতে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল সময়ের চাহিদানুযায়ী সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩: ৫ মাস ধরে পদায়নের অপেক্ষায় ১৪,৩৮৪ প্রার্থী, তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ !

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩: ৫ মাস ধরে পদায়নের অপেক্ষায় ১৪,৩৮৪ প্রার্থী, তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ !

চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও দীর্ঘ ৫ মাস ধরে বিদ্যালয়ে পদায়নের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৩ ব্যাচের ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক। দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার কারণে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন, স্বচ্ছ রোডম্যাপ প্রকাশ এবং নতুন করে যুক্ত হওয়া ‘NSI Report’ সংক্রান্ত জটিলতার স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা। ​চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পক্ষে দেবব্রত সরকার এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, প্রায় ৯ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে লিখিত, মৌখিকসহ বিভিন্ন ধাপ অত্যন্ত সফলভাবে অতিক্রম করে ১৪,৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে চূড়ান্ত সুপারিশের পর বিদ্যালয়ে পদায়নে এমন দীর্ঘসূত্রতার কোনো নজির এর আগে দেখা যায়নি। ​ভুক্তভোগী প্রার্থীরা জানান, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক প্রার্থীই তাদের পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, অনেকেই নতুন কোনো চাকরিতে যোগ দেননি এবং বর্তমানে তারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস হারিয়ে চরম বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়োগের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে নীলফামারী জেলার এক চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ​প্রার্থীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে: ১. নিয়োগ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী ১৪,৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ২. পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর অতিরিক্ত ধাপ হিসেবে যুক্ত হওয়া ‘NSI Report’ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। ৩. নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। ​আবেদনকারীরা আরও উল্লেখ করেন, তারা কোনোভাবেই প্রশিক্ষণের বিরোধী নন। তবে চূড়ান্ত সুপারিশের পর পুনরায় মূল্যায়ন কিংবা বিধিমালাবহির্ভূত কোনো নতুন শর্ত আরোপ করা হলে তা প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করবে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যখন তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে, তখন এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে দ্রুত পদায়ন করা হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে এবং সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার এই চরম অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে। ​উল্লেখ্য, এই ন্যায্য দাবি আদায়ে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ইতিমধ্যে দেশের ৬১টি জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, রাজধানীতে লাগাতার শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। তারা রাজপথে নয়, বরং অবিলম্বে শ্রেণিকক্ষে ফিরে দেশ ও জাতি গঠনে নিজেদের নিয়োজিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews