
নগর ভবন বর্তমান স্থানেই চায় নগরবাসী !
কুমিল্লা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে নগরবাসী ও প্রতিনিধিরা। স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া মতামতে তারা বলেন, ১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর যে স্থানে কুমিল্লা পৌরভবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক স্থান থেকেই নাগরিক সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই নতুন নগর ভবনও একই স্থানে নির্মাণ করা উচিৎ। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অতীন্দ্র মোহন রায় সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে মতবিনিময় ও তদন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় প্রথমে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে আবেদন করেছেন। অপরদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নগরের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট ধর্মপুর এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। দুইপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সরেজমিন তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, আমি তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আপনাদের প্রত্যেকের মতামত শুনব, লিপিবদ্ধ করব এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করব। সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁঞা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান স্থানে নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, আবুল হাসনাত বাবুল, মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, আমার শহর পত্রিকার সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ, কুমিল্লা নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর, সাবেক মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত আলী বকুল, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রায়হান রহমান হেলেন, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রূপালী এবং মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান রানা। এ সময় জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, যুবদল নেতা রনি, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ছুট্টি, রেজাউল হক আঁখি, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান গোলদার, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ছোট ধর্মপুর এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দেন সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইন। তাদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, মো. শাহ আলম মজুমদার ও কাজী মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সবার বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। লিখিত মতামতও গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনসহ সব মতামত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অদূরে ছোট ধর্মপুর এলাকায় নির্মিত আঞ্চলিক নগর ভবন পরিদর্শন করেন। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ওই স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বর্তমান নগর ভবনের স্থানেই নতুন ভবন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষ স্থানীয় সরকার বিভাগে পৃথক চিঠি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে সংসদ সদস্যের আবেদনের কারণে নতুন নগর ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দরপত্র কার্যক্রম, টেন্ডার সিডিউল বিক্রি ও জমা গ্রহণ আপাতত স্থগিত রয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।