
শৃঙ্খলার রাজপথ থেকে জনতার মঞ্চে, এ টি এম ফিরোজ মন্ডল !
জীবন কোনো সহজ সরলরেখা নয়, বরং তা বহু চড়াই-উতরাই, ঘাত-প্রতিঘাত আর অবিরাম লড়াইয়ের এক মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যে যারা সততা, শৃঙ্খলা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে নিজেদের হাতিয়ার বানান, দিনশেষে তারাই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেন। এমনই এক অনুকরণীয়, বহুমাত্রিক এবং লড়াকু ব্যক্তিত্বের নাম এ টি এম ফিরোজ মন্ডল (ইউনিভার্স)। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মেঠো পথ থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত—তাঁর গল্পটি প্রতিটি তরুণ ও যুবকের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, নন কোনো লোকদেখানো নেতা; তিনি মূলত মানবতার এক বড় মাপের সেবক, যার “ক্লিন ইমেজ” আজ রাজারহাটজুড়ে এক আস্থার প্রতীক। কিন্তু কে এই মানুষটি? কী তাঁর পরিচয়? এবং কীভাবেই বা তিনি মানুষের হৃদয়ে এই আসন গড়ে তুললেন?শিকড়ের টানে এক গর্বিত কৃষকের সন্তানএ টি এম ফিরোজ মন্ডল-এর জীবনের মজবুত ভিত্তি গড়ে উঠেছে তাঁর পারিবারিক গৌরব ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে। তিনি কুড়িগ্রাম অঞ্চলের অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত পানা উল্লা মন্ডল এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র আব্দুল খালেক মন্ডল সাহেবের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের একজন যোগ্য উত্তরসূরি। একই সাথে তিনি মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ, যিনি নিজেকে একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন এবং কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ এবং ঘামের মূল্য গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। এই পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিকতা এবং শিকড়ের টানই তাঁকে সারাজীবন বিনয়ী, অহংকারহীন এবং জনমুখী করে রেখেছে। ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষাজীবন: রাজপথের প্রথম পাঠশিক্ষাজীবনে তিনি বাণিজ্য বিভাগ থেকে সফলতার সাথে বি.কম (B.Com) ডিগ্রি অর্জন করেন। এই শিক্ষাজীবনেই তাঁর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত নেতৃত্বের স্ফুরণ ঘটে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। তৎকালীন সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং রাজপথের তীব্র লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পাঠ শুরু হয়। ছাত্র রাজনীতির সেই লড়াকু অভিজ্ঞতা, মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা এবং আদর্শই তাঁর পরবর্তী জীবনের সমাজসেবা ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রধান ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।দেশসেবায় দুই দশক: সেনাবাহিনীর সুশৃঙ্খল জীবন বাণিজ্যিক শিক্ষা ও ছাত্র রাজনীতির উত্তাল রাজপথের পর তাঁর জীবনে আসে এক বড় এবং গৌরবময় অধ্যায়। তিনি দেশের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বেসামরিক পদে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০টি বছর তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা এবং সুনামের সাথে দেশের সেবা করেন। সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ চাকুরিজীবন তাঁর ভেতরে কঠোর শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, কর্তব্যপরায়ণতা এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সাহসের সাথে মোকাবেলা করার এক ইস্পাতকঠিন মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছে।আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে কর্মসংস্থান: বেকারত্ব দূরীকরণে অবদান ২০১৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে সসম্মানে চাকুরি শেষ করার পর তিনি বসে থাকেননি। নিজের কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যবসায়িক জগতে পা রাখেন এবং শুরু করেন আউটসোর্সিং ঠিকাদারি ব্যবসা। তাঁর সততা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে খুব অল্প সময়েই তিনি এই খাতে দেশজুড়ে এক বিশাল সাফল্য অর্জন করেন। নিজের ব্যবসায়িক মেধাকে কাজে লাগিয়ে তিনি শুধু রাজারহাটেই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের বহু মানুষের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের এক অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। আজ দেশের হাজারো তরুণ তাঁর প্রতিষ্ঠিত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিরাট এবং প্রশংসনীয় অবদান। তাঁর এই সাফল্য আজ সমগ্র বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।মানবতার সেবায় নিবেদিত এক প্রাণ: সচিত্র সমাজসেবা ও দান-খয়রা এ টি এম ফিরোজ মন্ডল কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী বা নেতাই নন, তিনি মূলত একজন বড় মাপের মানবতার সেবক। প্রচারবিমুখ এই মানুষটি নিঃশব্দে বছরের পর বছর ধরে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সমাজসেবা কোনো লৌকিকতা নয়, বরং তা মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মাঠপর্যায়ে তাঁর নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কাজের চিত্রগুলোই তাঁর শ্রেষ্ঠ পরিচয়:হাসপাতালে অসুস্থদের পাশে: তিনি নিয়মিত স্থানীয় হাসপাতালের বেডে বেডে গিয়ে অসহায়, দুঃস্থ রোগীদের খোঁজখবর নেন। অসুস্থ বৃদ্ধা ও যুবকদের শিয়রে দাঁড়িয়ে পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, সান্ত্বনা দেওয়া এবং তাদের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া তাঁর প্রতিদিনের স্বভাব। ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতি: এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় উৎসবে সবসময় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইমাম-ওলামাদের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সরাসরি পাশে গিয়ে দাঁড়ান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে মুক্তহস্তে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।যুবসমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়ন: যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি খেলাধুলার প্রতি বিশেষ জোর দেন। এলাকার তরুণ ও কিশোরদের হাতে ফুটবল, ভলিবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী তুলে দিয়ে তাদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে চলেছেন।গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারে পুনর্বাসন: ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘর হারানো বা জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসকারী অসহায় ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিনামূল্যে ঢেউটিন এবং ঘর তৈরির সামগ্রী বিতরণ করেন।কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো: তৃণমূলের কৃষকদের কষ্ট লাঘব করতে এবং বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি নিজ দায়িত্বে এলাকায় নলকূপ বা টিউবওয়েল স্থাপন ও বিতরণের মতো টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে “ঘোড়া” মার্কার বীরত্বপূর্ণ লড়াই চাকুরিজীবনের সুদৃঢ় শৃঙ্খলা, ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং এই সমাজসেবাকে পুঁজি করে এ টি এম ফিরোজ মন্ডল নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেছেন রাজারহাট উপজেলার মানুষের কল্যাণে। এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ে এবং রাজারহাটকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি স্বতন্ত্র উপজেলা চেয়ারম্যান পদে “ঘোড়া” মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কোনো বড় দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব ছাড়াই, কেবল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং নিজের ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বকে সম্বল করে “ঘোড়া” মার্কার সেই নির্বাচনি লড়াইয়ে তিনি এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। নির্বাচনী ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেই লড়াই প্রমাণ করেছে যে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা কোনো পদের চেয়ে কম নয়। পরাজয় তাঁকে থামিয়ে দেয়নি, বরং মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও মাঠের সক্রিয়তা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।ব্যক্তিগত জীবন ও তৃণমূলের সাথে নিবিড় বন্ধন: আস্থার প্রতীক ব্যক্তিজীবনে এ টি এম ফিরোজ মন্ডল এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক। একজন কন্যার বাবা হিসেবে তাঁর ভেতরের দায়িত্ববোধ, স্নেহ এবং ধৈর্য চিরকালই অনন্য। তিনি কোনো ড্রয়িংরুমের বা লোকদেখানো নেতা নন। গভীর রাত বা সন্ধ্যায় স্থানীয় হাটে-বাজারে, মেঠো পথে বা চায়ের দোকানগুলোতে সাধারণ মেহনতি ও কৃষক মানুষের সাথে বসে আড্ডা দেওয়া, তাদের জড়িয়ে ধরে সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়াই তাঁর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা এবং তাঁর নিষ্কালঙ্ক ‘ক্লিন ইমেজ’-এর কারণেই তিনি আজ রাজারহাটের মানুষের মনে একজন “আস্থার প্রতীক” হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর এই সততা ও ন্যায়ের লড়াইয়ে আরিফ মেম্বারের মতো বিশ্বস্ত সহযোদ্ধারা সবসময় তাঁর পাশে ছায়ার মতো আছেন। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন এ টি এম ফিরোজ মন্ডল তাঁর কর্মদক্ষতা, সততা এবং দেশপ্রেমের আলো দিয়ে আমাদের প্রিয় রাজারহাট উপজেলাকে একটি আদর্শ, আধুনিক এবং ‘রাজার মুকুটের’ মতো একটি অনন্য ও দৃশ্যমান উপজেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। একজন সৎ, কর্মঠ, সুশৃঙ্খল ও মাটির মানুষের হাত ধরেই আসুক আমাদের কাঙ্ক্ষিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন।