
কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ !
কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তার তাঁর বদলি ঠেকাতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। রবিবার (২৪ মে) বিকেলে প্রকৌশলী আবুল খায়ের গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট নিজেই এ অভিযোগ তুলে ধরেন। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় উচ্চমান সহকারী তাজমিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে একই দিন সকালে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন তার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তার। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, ‘গত ২০ মে সন্ধ্যায় আমাদের একটি টেন্ডারের লটারি ড্র হয়। এরপর উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তার আমাদের সহকর্মী টিপু সুলতানকে রেজাল্ট সীট দিতে বলেন। তিনি সীটটি না দেওয়ায় তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরদিন সকালে তাজমিনা অফিসে এসে ৬-৭ জন সহকর্মীর সামনে টিপুকে অপমান করে। এ সময় দুই জনকে থামাতে গেলে তাজমিনা আমার ওপরও চড়াও হয়। একপর্যায়ে বাহির থেকে আমার রুমে তালা বন্ধ করে দেয় তাজমিনা। ভেতরে আমি ও আমার সহকর্মী তরিকুল সাহেব বসে আছি। আমি ২০ মিনিট তালাবদ্ব ছিলাম। একপর্যায় তাঁর স্বামী সহ ৭-৮ জন বহিরাগত লোক অফিসে প্রবেশ করে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা আমাকে ১০ মিনিট সময় দিয়ে তাজমিনাকে শোকজ করতে বলেন। এক পর্যায়ে তাজমিনা অফিস থেকে বের হয়ে যায়। ওই দিনই তার বদলীর আদেশ হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় আগামী ১ জুন তাকে বদলীকৃত পটুয়াখালীতে যোগদান করতে। অন্যথায় ২ জুন দুপুরের পর থেকে তাৎক্ষনিকভাবে তাজমিনা অব্যাহতি প্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবে। এরপর ২৩ মে সকালে তিনি আবার অফিসে এসে একদিনের ছুটির আবেদন করে। তখন আমি তাকে বলি আপনার যেহেতু বদলির আদেশ হয়েছে আপনার ছুটি লাগবে না। আপনি অফিসের সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে একবারে চলে যান। এ সময় তিনি আমাকে ছুটি মঞ্জুর করাতে বাধ্য করেন এবং আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে খারাপ ব্যবহার করে। যা আমার অফিসের অন্যসহকর্মীরা দেখেছে।
এরপর আফিসের চাবি একাউন্টেন্টের কাছে বুঝিয়ে দিতে বললে তা না দিয়ে জোর করে আমার টেবিলে রেখে চলে যায়। হঠাৎ রবিবার সকালে অফিসে ঢুকে তিনি যে রুমে বসতেন ওই রুম থেকে নারী-পুরুষ সবাইকে বের করে দেয়। এক পর্যায়ে আমার রুমে এসে ছাড়পত্র দাবি করে। আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি গোলাটে হলে আমি পুলিশে খবর দেই। পুলিশ আসারপর তাদেরকেও চার্জ করেন, তারা কেন আসল। তাজমিনা আক্তার আমার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। সম্পূর্ণ অভিযোগ মিথ্যা। মুলত তিনি বদলি ঠেকাতে এই নাটক করেছে। আমার অফিসে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি আছে আপনারা তাদের কাছ থেকে খবর নেন, আমি কোন ধরণের মানুষ। এ বিষয়ে তাজমিনা আক্তার বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। তাকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হন নির্বাহী প্রকৌশলী। এছাড়া অফিস ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ব্যক্তিগত বাসার মতো ব্যবহার করতেন আবুল খায়ের।’ তাজমিনা আক্তার আরো বলেন, গত ২১ তারিখ তাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে সাতজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও হেনস্তা করা হয়। এক পর্যায়ে এক স্টাফ তার দুই হাত চেপে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে। এ ঘটনার পরপরই তাকে কুমিল্লা থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে তাজমিনা আক্তারের বদলির আদেশ হয়েছে, তবে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কান্নাকাটি করছেন। এ ঘটনায় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেছেন। এদিকে রাত ৮টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের থানায় উপস্থিত হয়ে তাজমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।