1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত: ছেলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন বাবা! - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
গোবিন্দগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকারসহ  মালামাল লুট !  শৃঙ্খলার রাজপথ থেকে জনতার মঞ্চে, এ টি এম ফিরোজ মন্ডল ! এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল করে জমি দখলের চেষ্টা, অভিযোগকারীর সংবাদ সম্মেলন ! বিশেষ সাক্ষাৎকার তীব্র সমালোচনার মুখেও অটল ইফার নতুন ডিজি ! জেলা পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক২০২৬ অনুষ্ঠিত  ! সংগ্রাম ও মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন। ​জলবায়ু সংকট ও কাজের ভবিষ্যৎ: টেকসই ও ন্যায্য বাংলাদেশের পথে যাত্রা ! সিলেটের সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে ! জনগণের কল্যাণে আমাদের কাজ করতে হবে, উন্নয়ন করতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে ! পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবীতে মানববন্ধন !

নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত: ছেলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন বাবা!

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত: ছেলের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন বাবা!

​পারিবারিক বিরোধ ও বড় মেয়ের উস্কানিতে নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা অভিযোগের জন্য প্রকাশ্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ ব্যবসায়ী মনাজির খান (৭৬)। তিনি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের ‘গফুর মেনশন’-এর বাসিন্দা ও জুতা ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুই হাত জোড় করে নিজের ভুলের জন্য পরিবারের সদস্য ও সর্বসাধারণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
​ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে বড় মেয়ে
​মনাজির খান জানান, তার বড় মেয়ে সীমা পারভীন মুন্নির চক্রান্তের শিকার হয়ে তিনি নিজের স্ত্রী ও অন্য সন্তানদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। মুন্নি কৌশলে তার কাছ থেকে একাধিক নন-জুডিশিয়াল ব্ল্যাঙ্ক (খালি) স্ট্যাম্প এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি তার কাছের মানুষের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, এসব কাগজ তাকে বিপদে ফেলতে এবং পরিবারের সম্পদ আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছিল।
​তিনি বলেন, “আমি বাংলা পড়তে জানি না। আমার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে বড় মেয়ে মুন্নি আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি না বুঝেই আমার স্ত্রী, তিন ছেলে—খোরশেদ আলম, মোক্তার আলম, সানি আলম এবং অন্য মেয়েদের নামে মিথ্যা মামলা ও মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়েছিলাম।”
​সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা
​মনাজির খান আরও জানান, বড় মেয়ের চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রায় ৮০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট মুন্নির নামে ‘হেবা’ (দান) করে দিয়েছিলেন। এছাড়া তাকে প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা হাতখরচও দিতেন। এর বাইরে তার ছেলেরা তাকে সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। কিন্তু মুন্নি তার বাবার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার রোগকে পুঁজি করে পুরো পরিবারের সম্মান নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
​খোরশেদ আলমের সুনাম ও মানবিকতা
​গফুর মেনশন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীরা জানান, মনাজির খানের বড় ছেলে খোরশেদ আলম অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সুনামের সাথে জুতা আমদানির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীদের বিপদে সবসময় এগিয়ে আসেন। বাবার বার্ধক্যজনিত খিটখিটে মেজাজ এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও খোরশেদ আলম তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন।
​এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে খোরশেদ আলম সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তার বাবার সাথে কোনো ধরনের চেক বা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লেনদেন কিংবা কেনাবেচা করার পূর্বে অবশ্যই যেন তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিষয়টি অবগত করা হয়।
​অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা
​নিজের ভুল বুঝতে পেরে মনাজির খান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি মানুষ, আমার ভুল হতে পারে। বার্ধক্যের কারণে আমি অনেক সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি এবং কথা বলে ভুলে যাই। আমার বড় ছেলে খোরশেদ আলম একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং আমি তার জন্য গর্ব করি। আমি আমার নিজের পরিবারের যে মান-সম্মান নষ্ট করেছি, এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দেওয়ার সামান্য চেষ্টা করছি।”
​তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার যা কিছু সম্পত্তি আছে তাতে তার সকল সন্তানের সমান অধিকার রয়েছে। ভবিষ্যতে তার কোনো আচরণে বা কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে সরাসরি বড় ছেলে খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। পরিশেষে তিনি সমাজের সকল ভালো মানুষের কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট