1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
রূহানী জগতের ধ্রুবতারা মুহাম্মদ জাফর আলী শাজলী ক্বাদরী (রহ.)! - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আলোকিত মানিকগঞ্জ সাহিত্য সংঘের কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত সত্যের জ্যোতির্ময় প্রকাশ: সৈয়দ কালান্দার বাবা বেদম ওয়ার্সী আল জাহাঙ্গীর রূহানী জগতের ধ্রুবতারা মুহাম্মদ জাফর আলী শাজলী ক্বাদরী (রহ.)! কাটাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  ও সাবেক বিএনপির নেতার সাফল্য ও কৃতিত্ব ! কালীগঞ্জে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর মতবিনিময় গতি ফিরেছে গাজীপুর জেলা পরিষদের! মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা চেতনায় ৭১ কেমন আছে! কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ সহ আটক ৮ জন! জ্বালানি তেলের  সংকট- বিশ্ব রাজনীতির মারপ্যাঁচ নাকি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের কারসাজি!

রূহানী জগতের ধ্রুবতারা মুহাম্মদ জাফর আলী শাজলী ক্বাদরী (রহ.)!

এ আর জাফরী
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

রূহানী জগতের ধ্রুবতারা,
শাহসুফি মৌলভী ক্বারী ফকির মুহাম্মদ জাফর আলী শাজলী ক্বাদরী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন ও কর্ম 

আধ্যাত্মিক উদয় ও বংশ পরিচয় :
সুফিবাদের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে ১৯৩৩ সালের ৪ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের বড়ইয়াকান্দী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শাহসুফি মৌলভী ক্বারী ফকির মুহাম্মদ জাফর আলী শাজলী ক্বাদরী (রহ.)। তিনি ছিলেন ‘দায়ী-গাজী সরকার’ বাড়ির এক পুণ্যময় বংশের প্রদীপ। তাঁর পিতা মরহুম দুদ মিয়া প্রধান এবং মাতা ফুলভানু প্রধান। তাঁর পিতামহ হাজী কিতাবদী প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন পুরুষ হিসেবে প্রখ্যাত সাধক হাজী দায়ীগাজী সরকারের ঐতিহ্যকে তিনি বহন করেছেন।

শৈশব ও ইলমের অন্বেষণ; তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের যাত্রা :
তাঁর শিক্ষা জীবন ছিল একনিষ্ঠ সাধনা ও আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার সংমিশ্রণ। নিজ গ্রামে মক্তব শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি তুলাতুলি গ্রামের প্রখ্যাত মৌলভী তমিজ উদ্দীন খাঁ (রহ.)-এর কাছে ‘মিজান’ ও ‘নাহুমীর’ মতো কিতাবগুলো অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি আড়াই হাজারের দাশিরদিয়া গ্রামের অলীয়ে কামেল ক্বারী আলী নেওয়াজ (রহ:) যিনি ক্বারী ইবরাহীম উজানী (রহ.)-এর সুযোগ্য খলিফা ছিলেন তাঁর নিকট ইলমে ক্বিরাত ও ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেন এবং ক্বারী আলী নেওয়াজ (রহ:)এর নিকটেই চিশতিয়া সাবরিয়া তরিকার বায়াত গ্রহণ করেন।

আধ্যাত্মিক দীক্ষা ও খেলাফত প্রাপ্তি :
মৌলভী ক্বারী ফকির মুহাম্মদ জাফর আলী (রহ.)-এর জীবনের পরম মুহূর্তটি আসে যখন তিনি তরিকতের দিকপাল শাহসুফি মাওলানা ফকির সোলাইমান শাজলী ক্বাদরী (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। সেখানে তিনি ইলমে তাসাউফ বা আধ্যাত্মিক (সুফিবাদ) ও শাজলীয়া-ক্বাদরীয়া তরিকার পরম দীক্ষায় দীক্ষিত হন। ১৩৭৯ বাংলার ১৩ ভাদ্র তাঁর জীবনের সেই ঐতিহাসিক দিন, যেদিন তাঁর মুরশিদ তাঁকে লিখিত ও মৌখিক ‘মাজাজিনে বায়াত’ বা খেলাফত প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি চার তরিকার মুরশিদ মাওলানা নুরুল ইসলাম লালপুরী (রহ.)-এর বিশেষ স্নেহভাজন ছিলেন এবং তাঁর খাস দোয়া লাভ করেছিলেন।

খিদমতে দ্বীন ও সমাজ সংস্কার :
সুফিবাদের মূলমন্ত্র ‘সৃষ্টির সেবা’কে বুকে ধারণ করে তিনি ১৩৬৮ সন থেকে নিজ গ্রামে অবৈতনিক মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। তিনি কেবল একজন সাধক ছিলেন না, ছিলেন এক মহান সমাজ সংস্কারক।
* মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠা: রামপ্রসাদেরচর গ্রামে মক্তব ও জামে মসজিদ স্থাপন (১৩৭৪ বাংলা), খলিয়ার চর কাবিলা বাড়িতে মক্তব ও জামে মসজিদ (১৩৮৮ বাংলা) প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
* শিক্ষার প্রসার: তিনি বিশ্বাস করতেন একজন শিক্ষকই পারেন সমাজ বদলে দিতে। তিনি রাসুল (সা.)-এর ‘বুইছতু মুয়াল্লিমান’ (আমি শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি) আদর্শের প্রকৃত অনুসারী ছিলেন।

বড়ইয়াকান্দি আশরাফিয়া মাদরাসা, এক মহৎ স্বপ্নের বাস্তবায়ন :
তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো বড়ইয়াকান্দি আশরাফিয়া হাফেজিয়া ও এবতেদায়ী মাদরাসা এবং এতিমখানা কমপ্লেক্স। ১৯৮৯ সালে ডেমরার আমলিয়ায় তাঁর সুযোগ্য ছাত্র মাওলানা আশরাফ আলী জিহাদীর বাড়ি উদ্বোধনের দিনে তিনি প্রথম এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নটি তুলে ধরেন। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্র-ওস্তাদ মিলে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন। নিজের জীবনের শেষবেলায় তিনি ঢাকায় বসবাস ছেড়ে নিজ গ্রামে অবৈতনিক শিক্ষকতা করার যে মহান সংকল্প করেছিলেন, তা সমাজসেবার এক বিরল দৃষ্টান্ত।

মরমী সাহিত্য ও আধ্যাত্মিক সাধনা :
তিনি কেবল একজন আলেম ছিলেন না, ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের এক সাধক কবি। তাঁর রূহের গভীর থেকে উৎসারিত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার গজল, ভক্তিমূলক গান, মুরশিদী গান এবং দেহতত্ত্বের অমর কবিতা ও বাণী। তাঁর এই সাহিত্যকর্ম মূলত মাশুকের (আল্লাহর) প্রতি তাঁর প্রেমেরই এক একটি স্ফুলিঙ্গ।

রূহানী সম্পর্ক ও চিরবিদায় :
ওস্তাদ ও শাগরেদের বিরল সম্পর্কের প্রতীক ছিলেন তিনি। তাঁরই হাতে গড়া রূহানী সন্তান মাওলানা আশরাফ আলী জিহাদী তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো পরম মমতায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট, সোমবার ভোর ৪টায় ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেঝ মেয়ের বাসায় প্রকাশ্য মৃত্যূর দিন তারিখ ঘোষণা করে এই মহান সাধক ইহধাম ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুর আগে তিনি নিজের শেষ ঠিকানা করে নিয়েছিলেন তাঁরই গড়া মাদরাসা মসজিদ বায়তুল মামুরের মিম্বারের নিচে। যা প্রায় ২৫ বসর আগে নিজহাতে কবর তৈরি করে রেখেছিলেন।

ভবিষ্যৎ আহ্বান ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার :
তাঁর চলে যাওয়া কেবল একটি নক্ষত্রের পতন নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক সূর্যদয়ের সূচনা। আজ বড়ইয়াকান্দি মাদরাসা ও এতিমখানা তাঁর স্মৃতির অক্ষয় মিনার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুফিবাদের উচ্চাঙ্গের ভাবধারা সমৃদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা এবং এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানোই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। শাহসুফি মৌলভী ক্বারী ফকির মুহাম্মদ জাফর আলী শাজলী ক্বাদরী (রহ.) ছিলেন এমন এক আলোকবর্তিকা, যাঁর আলোয় আলোকিত হয়েছে হাজারো হৃদয়। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের রূহানী জগতের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে চিরকাল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট