
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দুই প্রতিবেশীর সামান্য বিরোধ থামাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন মাহমুদুর হাসান বাবু (৪০) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী। ঘটনাটি উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের গাজোকাটি খারিজা ভাজনি প্রধানপাড়া এলাকায় ঘটে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গাছের শেকড়কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আনিস ও সিদ্দিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান স্থানীয় মুদি দোকানদার বাবু। কিন্তু বিরোধ থামাতে গিয়ে উল্টো তিনি নিজেই আক্রমণের শিকার হন।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে সিদ্দিকের ছেলে সেলিম লাঠি দিয়ে বাবুর মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মাথা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত রংপুরে স্থানান্তর করেন।
রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১৫ মার্চ তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে ১৭ মার্চ বিকেলে তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়রা জানান, বাবু ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ। গাজোকাটি বাজারে ছোট একটি মুদি দোকান চালিয়ে তিনি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না; বরং এলাকায় কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা মীমাংসায় তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রাখতেন।
নিহতের মা বকুল খাতুন ছেলের মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী, দুই কন্যা ও একমাত্র ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।