মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা বাউফলে প্রধানমন্ত্রীর ছবির উপর অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ লেখার অভিযোগ ঘোড়াঘাটে হারপেস ইনফেকশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সাইন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নামার আলটিমেটাম অসুস্থ ও অসহায় পরিবারের  পাশে দাঁড়ানোর   আহ্বান, এমপি কাজলের ! হাটহাজারীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কমিউনিটি সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা !  নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনঃতফসিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

গাইবান্ধায় শত বছরের ঐতিহ্য: ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করেন শত পরিবার

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দরিয়াপুর যুগিপাড়া গ্রামে প্রায় শত বছর ধরে টিকে আছে এক অনন্য ঐতিহ্য। আধুনিকতার ভিড়ে অনেক পেশা হারিয়ে গেলেও, প্রায় শতাধিক পরিবার এখনো ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির আদিম পদ্ধতিকে আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশাই এখন গ্রামটির প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাড়ভাঙা খাটুনি ও চুন তৈরির প্রক্রিয়া
সরেজমিনে দেখা যায়, যুগিপাড়ার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই এই কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। গাইবান্ধা বিভিন্ন এলাকার নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে তা রোদে শুকানো হয়। এরপর বিশেষ উপায়ে তৈরি মাটির চুল্লিতে সেই ঝিনুকগুলো সাজিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয়। দীর্ঘ সময় পোড়ানোর পর ঝিনুকগুলো সাদা ছাইয়ের মতো হয়ে যায়, যা পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশ্রিত করে তৈরি করা হয় খাঁটি চুন। এই বিশেষ উপায়ে তৈরি চুল তাদের  জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
এই চুনের চাহিদা রয়েছে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে। বিশেষ করে পানের সাথে খাওয়ার জন্য এই ‘ঝিনুক চুন’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। যুগিপাড়ার কারিগররা প্রতিদিন গড়ে কয়েক কেজি চুন তৈরি করে। তৈরি চুন পাইকারি ও খু চরা দরে স্থানীয় দরিয়াপুর বাজারসহ গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হয়।
পরিবার: প্রায় ১০০টি পরিবারের কয়েকশ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন এই পেশার মাধ্যমে।
.
চুন তৈরি তৈরি কারিগর গনেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন আমাদের বাপ-দাদারা এই কাজ করে গেছেন। আমরাও কষ্ট করে এটা ধরে রেখেছি। ঝিনুক সংগ্রহ করতে আগের চেয়ে কষ্ট বেশি হলেও এই চুন আমাদের জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে।
স্থানীয় চুন কারিগর পরস চন্দ্র দেবনাথ বলেন বর্তমানে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগের মতো সহজে ঝিনুক পাওয়া যায় না। এছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চুন তৈরির খরচও বেড়েছে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত হতে পারে এবং কারিগরদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে বলে মনে করছেন।
গাইবান্ধা জেলা বিসিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস বলেন, গাইবান্ধা জেলায় বেশ কিছু সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প রয়েছে, যার মধ্যে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি অন্যতম। এই শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলো দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় চাহিদাপূরণে ভূমিকা রাখছে। বিসিকের পক্ষ থেকে এই কারিগরদের দক্ষতাকে আরও আধুনিক করতে বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। চুন তৈরির কারিগরদের শুধু প্রশিক্ষণই দিচ্ছি না, বরং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করতে ক্ষুদ্রঋণ সহযোগিতারও ব্যবস্থা করছি। বিসিকের এই সহযোগিতা জেলায় কুটির শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews