
পাবনায় পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতার ও সেহরিতে প্রাকৃতিক মিষ্টিরচাহিদা মেটাতে আখের গুড় তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে। রাত-দিন কাজ করছেন গুড়কারিগররা। আখের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় খাঁটি গুড়। গ্রাম থেকে শহরেসবখানেই বাড়ছে গুড়ের চাহিদা। ইফতারের শরবত, পায়েস কিংবা বিভিন্নপঠাপুলিতে গুড় যেন রমজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদিকে ভেজালের ভিরে গুড়ের ন্যায্য দামপাচ্ছেন না বলে দাবী করেছেন কৃষকরা।
আখ চাষি কৃষকরা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে গুড়ের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু বাড়তি চাহিদার মাঝেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। কিছুঅসাধু ব্যবসায়ী গুড়ে চিনি, কেমিক্যাল ও রং মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন।
এতে কম দামে বাজারে ভেজাল গুড় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আখের খাঁটি গুড়ের ন্যায্য দামপওয়া যাচ্ছে না। পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুরের কৃষক মজিদ মোল্লা জানান, বর্তমানের আখ চাষখুবই ব্যয় বহুল। আমাদের এখানে মিল নাই, এজন্য আমরা গুড় তৈরি করছি। কিন্তু গুড়তৈরি করতে আখ উৎপাদন ও শ্রমিক মজুরির জন্য যে পরিমাণে খরচ তাতে উৎপাদন
খরচ ওঠাই কষ্টকর। কারন ভেজাল আর আসল গুড়ের দাম অনেক প্রার্থক্য রয়েছে। কিন্তুমানুষ দাম কম-বেশি হলে ক্ষেপে যায়। কম দামে ভেজালটাই কিনে নেয়।পাবনা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলায় মিল জোন এবং নন-মিলজোন হিসেবে দুটি জোনে আখ চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে চলতি বছরে মিলজোনে ১ হাজার ৩০ হেক্টর জমি এবং নন-মিল জোনে ১৫৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষহয়েছে। মিল জোনের আখগুলো চিনি উৎপাদনের জন্য চিনিকলে পাঠানো হয় এবংনন-মিল জনের আখ গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এবার নন মিল জনের আখ থেকে ৯২২মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিকজানান, চলতি বছরের আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও নন মিল জোনে আখ চাষ হয়েছে।কৃষি বিভাগ থেকে আখ উৎপাদনে সব কলাকৌশল ও দিক নির্দেশনা আমরাকৃষকদের দিয়েছি। খাঁটি গুড়ের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও কৃষি বিভাগ কাজ করছে।