
শরীয়তপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্যের পরিবারকে ঘিরে। শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও
সাবেক এমপি মরহুম কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেবের স্ত্রী এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এ্যাডভোকেট তাহমিনা আওরঙ্গ-কে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান তারা।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি এ আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী হতে পারেন। তাহমিনা আওরঙ্গ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয় উপস্থিতি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং আইনজীবী হিসেবে পেশাগত অভিজ্ঞতা তাকে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। স্থানীয় পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত রাখা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোও তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের ক্ষেত্রে দল সাধারণত এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী, পরীক্ষিত এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়। তাদের ভাষ্য, এ্যাড. তাহমিনা আওরঙ্গ সেই যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেন।
এছাড়াও সাবেক এমপি মরহুম আওরঙ্গজেবের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও তার জানা আছে। আর পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করেন, একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নারী রাজনীতিক হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে শরীয়তপুরের নারীদের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা এবং সামাজিক ইস্যুগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উদ্যোগে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। দলীয় হাইকমান্ড প্রার্থীর সাংগঠনিক অবদান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সার্বিক কৌশল বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, শরীয়তপুরে এ দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।