
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কেন্দ্রিক একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। জনসভা ঘিরে সকাল থেকেই বিরামপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে মানুষ সমাবেশস্থলে যোগ দেয়, পুরো এলাকা রূপ নেয় উৎসবমুখর পরিবেশে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এই অঞ্চলের প্রকৃত সম্ভাবনা কৃষি খাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাই কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ, মা-বোনদের ক্ষুদ্র ঋণ বাতিল এবং নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশমুখী না হয়ে নিজ এলাকাতেই কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে।
নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুদিন পর নানা বাড়ির এলাকায় এসেছেন এবং এলাকার মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে ধানের শীষে ভোট চান। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়—জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। তাই বিরোধী পক্ষের সমালোচনায় না গিয়ে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় উন্নয়নে দিনাজপুর-৬ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। এই এলাকায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল বা ইপিজেড স্থাপন জরুরি। এতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় এলাকার অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সমাধানে স্থানীয় জনগণ পরিবর্তন চায়।
শেষে তারেক রহমান দিনাজপুর জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “১২ তারিখ জনগণ ভোটের মাধ্যমেই তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।”