রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মনোহরদীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বিশ্ব কল্যাণ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর সমাবেশ ! বাউফলে পুলিশের অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন আটক। গাইবান্ধা সহ ৭ জেলায় নতুন করে বন্যার আভাস অদৃশ্য অন্তরে কক্সবাজারসহ সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ধরা’র সংবাদ সম্মেলন হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজি চালকের পরিবারের পাশে জামায়াত কক্সবাজারে দূর্গম  পাহাড়ে  অস্ত্র তৈরীর কারখানা,  আটক বাহিনীর  প্রধান, ধামরাইয়ের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা, মাসব্যাপী রথমেলা শুরু বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঘোড়াঘাট পৌরসভায় উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

খোকসায় রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
খোকসা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছেন। অথচ দিনের বেলায় সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে শুনছেন ওষুধ নেই, ফুরিয়ে গেছে।”
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালের স্টোরে থাকা সরকারি ওষুধ নিয়মিত রোগীদের না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে গরিব ও অসহায় রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, ২৭/১/২০২৬ ইং  মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে হাসপাতালের পেছনের অংশে কিছু লোকজনকে ওষুধের কার্টন নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু ওষুধ নয়- হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম।
রোগীদের ভাষ্যমতে, ভর্তি রোগীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি খাবারের তালিকা থাকলেও তা নিয়ম অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ডাক্তারী লিস্ট অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা অনেক সময় হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এসব অনিয়ম যেন হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের তালিকায় আরও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অনিয়ম উঠে এসেছে প্রসূতি সেবাকে ঘিরে। একাধিক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, নরমাল ডেলিভারিতে প্রসূতি মায়েদের সঙ্গেও হাসপাতালের কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী দুর্ব্যবহার করেন। ডেলিভারির পর রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বকশিস আদায় করা হয়, যা কার্যত বাধ্যতামূলক রূপ নিয়েছে।
রোগীদের ভাষ্যমতে, এই তথাকথিত ‘বকশিস’ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রেও সিজারিয়ান অপারেশনের মতোই ব্যয় গুনতে হয়। ফলে সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে নিরাপদ মাতৃসেবা পাওয়ার যে উদ্দেশ্য, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। সচেতন মহলের মতে, প্রসূতি সেবায় এমন আর্থিক হয়রানি ও অমানবিক আচরণ নারীদের জন্য চরম অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন,সরকার ফ্রি ওষুধ দেয় আমাদের জন্য। কিন্তু আমরা পাই না। বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। তাহলে এসব ওষুধ যায় কোথায়?”
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সরকারি হাসপাতালের এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এখন দেখার বিষয়,কর্তৃপক্ষ আদৌ নড়েচড়ে বসে কি না, নাকি সবকিছুই থেকে যাবে অন্ধকারের আড়ালে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews