মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা বাউফলে প্রধানমন্ত্রীর ছবির উপর অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ লেখার অভিযোগ ঘোড়াঘাটে হারপেস ইনফেকশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সাইন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নামার আলটিমেটাম অসুস্থ ও অসহায় পরিবারের  পাশে দাঁড়ানোর   আহ্বান, এমপি কাজলের ! হাটহাজারীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কমিউনিটি সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা !  নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও পুনঃতফসিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

চরম কষ্টে ছিন্নমূল মানুষ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
শহরের আলো-আড়ালে ভুলে থাকা মানবজীবনের চিত্র শহর যখন সকালে ঘুম ভাঙে, তখন ফুটপাতের ধারে, ওভারব্রিজের নিচে কিংবা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের এক পাশে বসে মানুষজন রুটি-চা খোঁজে। দিনের প্রথম খাবারটি তাদের কাছে আধা-লাক্সারি। ঠিকানাহীন, পরিচয়হীন এসব মানুষকে সাধারণত আমরা ‘ছিন্নমূল’ বলি; যেন এই শব্দেই তাদের অস্তিত্বের পুরো গল্প লুকানো।
ধরা যাক রেলস্টেশনের কথা। সেখানে বাচ্চারা কাগজ কুড়ায়, বয়স্করা ভাঙারি বেচে জীবিকা খোঁজে, আর মধ্যবয়সীরা হাড়ভাঙা শ্রমে দিন গুজরান করে। কেউ রাতে ফেরত যায় না কোনো বাড়িতে। কারণ বাড়ি নেই। কোনোদিন ছিল, এখন নেই; জলভাঙনে গেছে, জমি দখলে গেছে, কিংবা দারিদ্র্য গিলে ফেলেছে।
অনেকের গল্প একই, নাম ভিন্ন :
রাস্তার ধারে দেখা যায় সাত-আট বছরের ছেলে-মেয়ে কাগজে ঢাকা শরীর নিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাদের অভিভাবকরা রাতজাগা শ্রমিক, কখনো ভিক্ষুক, কখনো ফেরিওয়ালা। আরেকটু দূরে দেখা যায় এক বৃদ্ধ; চোখে ক্লান্তি, হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ, যার ভিতরেই তার সব সম্পদ। তিনি বলেন, “নদীভাঙন কইরা দিছে, আর রাখার জায়গা নাই।” এই সংক্ষিপ্ত বাক্যের ভেতরই লুকিয়ে থাকে নদীভাঙন, ভূমিহীনতা, রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা আর ব্যক্তিগত বেদনার বড় গল্প।
টিকে থাকার অভ্যাস, কিন্তু অধিকার নয় :
ছিন্নমূল মানুষদের জীবন কঠোর। শীতে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটানো, বর্ষায় ঘুম-ভেজা ব্যাগ শুকানো, গ্রীষ্মে পিচের গরমে জ্বলতে থাকা—এ সবই প্রতিদিনের অংশ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা টিকে থাকে। বেঁচে থাকা তাদের কাছে কোনো অধিকার নয়; বরং বাঁচতে থাকা এক অভ্যাস, যা শিখে নিতে হয় সময়ের সাথে।
রাষ্ট্রের নথিতে ‘সংখ্যা’, বাস্তবে মানুষ :
রাষ্ট্র এসব মানুষকে সাধারণত দেখে সংখ্যা হিসেবে—জরিপ প্রতিবেদন কিংবা নীতি প্রণয়নের কাগজে লেখা হয় ‘ভাসমান জনগোষ্ঠী’, ‘ছিন্নমূল’, ‘উচ্ছেদ’, ‘দারিদ্র্যসীমার নিচে’। কিন্তু খুব কমই লেখা হয়—‘মানুষ’। খুব কমই বিবেচনায় আসে তাদের সারাদিনের সংগ্রাম, শিশুদের ঝরে পড়া, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা কিংবা বৃদ্ধদের চিকিৎসাহীনতা।
সমাজের আয়না :
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি সমাজে ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যত বাড়ে, মানবিক অবনতি তত স্পষ্ট হয়। উন্নয়ন যত দ্রুত হয়, সমাজ তত বড় হয়, কিন্তু মানবতার ব্যয়ও তত বাড়ে। শহরের ফাইভ-স্টার আলোর নিচে ছিন্নমূল মানুষেরা তাই এক ধরনের আয়না—যেখানে আমরা নিজেদের মানবতা মাপতে পারি।
যদি কেউ তাকিয়ে কষ্ট পায়—তাহলে জানব, আমরা এখনও মানুষ আছি।
যদি কেউ তাকিয়েও কিছু অনুভব না করে—তাহলে বুঝতে হবে, ছিন্নমূল মানুষ কেবল ফুটপাথে নয়; আমাদের অন্তরেও তাদের জায়গা তৈরি হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews