
আজ ৩০ শে নভেম্বর রোজ রবিবার, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক সারাদিন বন্ধ করে রাখে অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। এই দাবিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ এক কাতারে এসে দাঁড়ায়। সারাদিনের জন্য তারা মহাসড়কটি বন্ধ করে রেখেছিল। বিশেষ করে পটিয়া, চন্দনাইশ, দোহাজারী, কেরানিহাট, পদুয়া, লোহাগাড়া, আজিজ নগর, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগা, রামু, লিংক রোড সহ এই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সহ সকল শ্রেণীর মানুষ সমবেত হয়। তাদের সকলের মুখে একটিই দাবি- চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে।
কক্সবাজার এশিয়ার দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হওয়ায় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পর্যটক প্রতিদিন এই রাস্তায় যাতায়াত করে থাকে। এছাড়াও রয়েছে টেকনাফ, সেন্টমার্টিন ও মিয়ানমারের বর্ডার। যার জন্য এই রাস্তায় গাড়ির যাতায়াত অনেক বেশি। সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যা বেড়েছে, গাড়িও বেড়েছে কিন্তু দুই লেনের রাস্তা দুই লেনেই রয়ে গেছে। যার কারনে প্রতিদিনই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়ক যেন একটি মৃত্যু কুপে পরিণত হয়েছে। অথচ এদিকে সরকারের কোন দৃষ্টি নেই। গত কুরবানীর ঈদের পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে শুধু জাঙ্গালিয়া নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন জায়গা মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো অনেক মারা গেছে। এই রাস্তায় দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত পঙ্গুত্ব বরণ করছে হাজার হাজার মানুষ।সরকারের কোন দৃষ্টি না থাকায় এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ। সারাদিন দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা চলতে দেখা গেছে।
মহাসড়ক ব্লকেডের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতি অল্প সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার আশ্বাস প্রদান করেন। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কৌশলগত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করছেন।