1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে ভারতের হিন্দুত্ববাদ: ১৯৭১-এর ঋণ ও আজকের অবজ্ঞা - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মারধরে যুবকের মৃত্যুর গুজবে পুলিশকে ধাওয়া!  জয়পুরহাটের সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার! চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের সংশোধনের জন্য ছয় মাস সময় দিলো, ডা: তাহের এমপি শরীয়তপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নুরুজ্জামান বেপারীর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬: পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য দুধের গুরুত্ব।  উজিরপুরে মসজিদের হিসাব চাওয়ায় হামলার!  কুমিল্লায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে মেঘনায় বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।  সঠিক নিয়মে যাকাত প্রদানই কোরবানির শিক্ষা।  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের করণীয়

বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে ভারতের হিন্দুত্ববাদ: ১৯৭১-এর ঋণ ও আজকের অবজ্ঞা

মোঃ কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫

বহুদিন পর, বর্তমান সরকার ভারতের প্রতি যে কিছুটা কঠোর এবং আত্মমর্যাদাশীল ভাষায় অবস্থান নিতে শুরু করেছে—তা নিঃসন্দেহে দেশের গণমানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকা জরুরি, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব যদি হয় একতরফা সুবিধা ও আত্মসমর্পণের, তবে সেটি বন্ধুত্ব নয়—নিম্নমুখী নির্ভরতা। ভারত বহুদিন ধরেই বাংলাদেশকে করিডর, নদীপথ, বন্দরসহ নানা সুবিধা নিয়েছে, অথচ তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, বিএসএফ-এর আগ্রাসন কিংবা ন্যায্য পানিবণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা দীর্ঘদিন নিরব থেকেছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের ভারতকে “না” বলার মনোভাব এবং কিছু ইস্যুতে কঠোর বার্তা দেওয়া একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এই পরিবর্তন শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং এক জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমাদের এখন আর কারো ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই—আর সেই বার্তা ভারতের কানে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।

ভারতের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মুসলমানদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে যে অবজ্ঞা ও শঙ্কার মনোভাব গেঁথে আছে, তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। অথচ এই ভারতই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল, রণাঙ্গনে সৈন্য পাঠিয়ে বিজয়ে সহায়তা করেছিল। এই বিরল বন্ধুত্বের ইতিহাস আজও বাঙালির হৃদয়ে গাঁথা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এই বন্ধুত্ব কতটা নিঃস্বার্থ ছিল? ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মুসলমানদের প্রতি প্রবল বৈরিতা সেই প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

ভারতের মাটিতে মুসলমানদের অবস্থান আজ চরম সংকটে। মোদি সরকারের আমলে হিন্দুত্ববাদ রাষ্ট্রীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), এনআরসি (NRC), বাবরি মসজিদ ধ্বংস, গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কিংবা প্রায়শই ঘটে চলা মুসলিমবিরোধী সহিংসতা—এসব ঘটনার মাধ্যমে ভারত যেন প্রমাণ করতে চায়, এই উপমহাদেশে মুসলমানের ঠাঁই নেই। অথচ এই ভারতেই বাস করেছেন এপিজে আবদুল কালামের মতো রাষ্ট্রনায়ক, শাহরুখ খান-আমির খানের মতো জনপ্রিয় মুখ, কিংবা ইরফান হাবিবের মতো পণ্ডিত। এত সাফল্যের পরও মুসলমানদের প্রতি রাষ্ট্র ও সংখ্যাগোষ্ঠীর এই অগহণযোগ্যতা নিঃসন্দেহে গভীর চিন্তার বিষয়।

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের যে সহায়তা বাংলাদেশ পেয়েছিল, তা ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়। ভারত বাংলাদেশকে সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিকভাবে যে সহায়তা করেছিল, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি সত্য হলো, সেই সহায়তার পেছনে ছিল ভারতের সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক স্বার্থ।

ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের বাজারে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়েই। ’৭২-’৭৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এই ‘ইন্ডিয়ান ডাম্পিং’ এর চাপে দমে যেতে থাকে। তারপর আসে ফারাক্কা বাঁধের ঘটনা—যেখানে গঙ্গার পানি একতরফাভাবে আটকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চল বাঁচাতে গিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুকরণের পথে ঠেলে দেয়া হয়।

শুধু তাই নয়, ভারত বরাবরই করিডোর, বন্দর, নদীপথসহ নানা সুবিধা একতরফা ভাবে আদায়ের চেষ্টা করেছে, এবং এসব নিয়ে বারবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিতর্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ভারতের অনেক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও ভারতের ভূমিকাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখেন। আজ ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানরা নিজ দেশে পরবাসীর মতো বেঁচে আছে। গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা, ঈদের জামাতে বাধা—এসব ঘটনা প্রতিদিন যেন ভারতীয় মুসলমানদের কাছে নতুন এক যুদ্ধের নাম। এই বৈরিতার আবহে বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন ওঠে—এমন একটি রাষ্ট্রের সাথে কি আমরা কোনো আত্মিক বন্ধুত্বে আবদ্ধ থাকতে পারি? বন্ধুত্ব তখনই টিকে থাকে, যখন তা হয় পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। ১৯৭১ সালে ভারতের সহায়তা নিঃসন্দেহে বন্ধুত্বের পরিচয় ছিল, কিন্তু তার পেছনে সুপরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক স্বার্থও ছিল, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার উপর বহু বছর ধরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বের মুখোশ পরে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে চলেছে—নদীর পানি আটকে, সীমান্তে গুলি চালিয়ে, বাজার দখল করে ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব খাটিয়ে। একতরফা সুবিধা নিতে নিতে তারা বন্ধুত্বকে পরিণত করেছে নিপীড়নের কৌশলে। তিস্তা চুক্তির আশ্বাস দিয়ে বছরের পর বছর আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে, আর আমরা কেবল ধৈর্য ধরেছি। এবার সময় এসেছে ভারতের মুখোশ উন্মোচনের—সমান মর্যাদায় সম্পর্ক না হলে, ভারতকে ‘বন্ধু’ নয়, ‘চাতুর্যের চোরাবালি’ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই দ্বিমুখী বাস্তবতা বুঝতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গৌরবকে ধারণ করতে হবে, কিন্তু সেই ইতিহাসের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও জানা দরকার। বাংলাদেশের কূটনীতি ও রাষ্ট্রনীতি যেন কখনোই নির্ভরতাকামী না হয়, যেন আত্মমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে—এই হোক আমাদের সংগ্রামের পরবর্তী অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট