সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
রাজশাহী বাগমারায়,অটোরিকশা ওট্রাকের মুখো মুখি সংঘর্ষ, আহত ৬ জন উচ্চশিক্ষার নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ! বাংলাদেশ বাসফোর (হরিজন) কল্যাণ পরিষদের টাঙ্গাইল জেলা কমিটি গঠন ! শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে গড়ে উঠতে হবে দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ! ঘোড়াঘাটে বলগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিতর্ক ! মেধা- শ্রম আর রেমিট্যান্সের নোয়াখালীর অপারঃ সও্বেও কাঙ্খিত আধুনিকায়নের অভাব। শ্রাবণ সন্ধ্যায় ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন মৌরশী সম্পত্তি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ! নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়ে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে উচ্ছ্বাস !

১৯৯১-এর সেই বিভীষিকাময় ২৯ এপ্রিল: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণ”

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

চট্টগ্রাম, ২৯ এপ্রিল:
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল—বাংলাদেশের উপকূলীয় ইতিহাসের এক কালো দিন। ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লক্ষ প্রাণ হারিয়েছিল, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল উপকূলের জনপদ। সেই হৃদয়বিদারক স্মৃতিকে স্মরণ করে আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণ সভা।
সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্মৃতিচারণ করে জানান, “১৯৯১ সালে আমি সদ্য চিকিৎসক পাস করেছি। তখন ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাটিয়ারি, চন্দনাইশ, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপসহ উপকূলীয় এলাকায় যে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের অভাবে মানুষ হাহাকার করছিল। আমি স্যালাইন ও ওষুধ নিয়ে দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং চট্টগ্রামের সাংসদ আবদুল্লাহ আল নোমান সাহেবের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু হয়। সেই সময় সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুর্গত এলাকার করুণ চিত্র তুলে ধরেছিলেন বলেই দেশ-বিদেশ থেকে সহায়তা এসে পৌঁছেছিল দ্রুত।”
ডা. শাহাদাত প্রয়াত সাংবাদিক ও দুর্যোগে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং জীবিত সাংবাদিকদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। পাশাপাশি, নগরীর পরিবেশ রক্ষায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেন।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় ১৯৯১ সালের সেই বিভীষিকাময় দুর্যোগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের হৃদয়স্পর্শী কিছু ছবি। ছবিগুলোতে দেখা যায়, পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া জনপদ, ঘরহারা মানুষদের খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও মৃতদেহে পরিপূর্ণ চারপাশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ধ্বংস হয় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও যোগাযোগব্যবস্থা। সন্দ্বীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পতেঙ্গা, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর ক্ষয়ক্ষতি ছিল ভয়াবহ মাত্রায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, দুর্যোগের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ। তাঁরা সবাই ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহতা স্মরণ করে বলেন, “এই স্মৃতি শুধু কষ্টের নয়, এটি আমাদের জন্য এক শিক্ষা। দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে আরও সচেতন ও সংগঠিতভাবে।”
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন অতীত স্মৃতিকে সম্মান জানায়, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য এক বার্তা দেয়—প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলা করতে চাই সহমর্মিতা, সংহতি ও সতর্কতা

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews