1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
মানবিকতার অভাবে উৎপলের মৃত্যু: গার্মেন্টস খাতে আর কত জীবন ঝরবে! - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবন’ উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রীর অংশগ্রহণ ! গোমস্তাপুর রোকনপুর সীমান্তে ১৫ জনকে পুশ-ইন প্রতিহত করল বিজিবি ! ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে নতুন প্রশাসককে বরণ, বিদায়ী প্রশাসককে সংবর্ধনা ! জয়পুরহাটে দিনব্যাপী কারাতে বেল্ট পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ! ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম’র উদ্যোগে সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতকে সংবর্ধনা ! রাজশাহীর  মহনপুরের, মহিষকুন্ডি গ্রামের,অধ্যাপক ড,শামিম আরা চৌধুরী  ! নজরুল স্মৃতি পদক পেলেন লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ! ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারাগঞ্জে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন ! জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্মকে তৈরি করার কাজটাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি ! কক্সবাজার থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী !

মানবিকতার অভাবে উৎপলের মৃত্যু: গার্মেন্টস খাতে আর কত জীবন ঝরবে!

তানহা ইসলাম
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

চট্টগ্রামের সিইপিজেড এলাকার এলসিবি গার্মেন্টসে এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেছে। জীবন নিয়ে, মানবিকতার সমস্ত অনুশাসন ভেঙে আদিবাসী তরুণ শ্রমিক উৎপল তঞ্চঙ্গ্যাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ফ্যাক্টরিতে ফিনিশিং হেলপার পদে কর্মরত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উৎপল গতকাল থেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রচণ্ড অসুস্থ ছিলেন। দুর্বল শরীর নিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু তার আবেদন আমলে নেওয়া হয়নি। চাকরি হারানোর ভয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক, এবং শ্রমিক জীবনের চিরচেনা নিরাপত্তাহীনতায় জর্জরিত উৎপল বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজে যোগ দেন। আজ সকালে, আরও ক্লান্ত, আরও দুর্বল শরীরে আবার ছুটির জন্য আবেদন করেন তিনি। সাড়া মেলেনি তখনও। বরং তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। দুপুর একটার দিকে শরীরের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। হালকা কণ্ঠের আর্তিতে, চোখের কোণে কান্না জমে তৃতীয়বারের মতো ছুটির আবেদন করেন উৎপল। তবুও ছুটি মেলেনি। যখন অবশেষে বিকেল চারটায় ছুটি মঞ্জুর করা হয়, তখন তার শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। তাকে দ্রুত বেবজা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সে সময়ের অবহেলা ও দেরির মাশুল দিতে হলো প্রাণ দিয়ে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তরুণ শ্রমিক উৎপল তঞ্চঙ্গ্যা।
উৎপলের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি শ্রমিকের জীবন নিয়ে প্রতিষ্ঠানিক অবহেলার ভয়াবহ দলিল। কোনো শ্রমিক যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন তার প্রতি ন্যূনতম মানবিক আচরণ প্রদর্শন করার যে দায় প্রতিষ্ঠানগুলোর, তা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। উৎপলের সহকর্মী পূর্ণা চাকমা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, “উৎপলের মৃত্যুর জন্য কারখানার অমানবিক আচরণ সরাসরি দায়ী। যদি সময়মতো ছুটি দিত, মানবিকভাবে একটু সহানুভূতির আচরণ করত, তাহলে হয়তো আজ উৎপল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকত।” আজকের বাস্তবতা হলো, শ্রমিকদের ওপর এই অবহেলা আর নির্যাতনের সংস্কৃতি দিনে দিনে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের রূপ নিচ্ছে। রোগে-শোকে ভেঙে পড়া শ্রমিকের মুখে মুঠোফোনের ক্যামেরা ঠেকিয়ে ‘শুধু উৎপাদন বাড়াও’ — এই মানসিকতা যতদিন চলবে, ততদিন উৎপলের মতো আরও অনেক তরুণ শ্রমিক অকালমৃত্যুর মুখোমুখি হবে।
একটি সমাজের সভ্যতা নিরূপিত হয় তার দুর্বলতম নাগরিকের প্রতি আচরণ দিয়ে। যেখানে শ্রমিকের জীবন এত সস্তা, যেখানে শ্রমিকের অসুস্থ শরীরেও লাভের খাতা ভরাতে বাধ্য করা হয়, সেখানে মানবিকতার স্থান কোথায়?
উৎপলের মৃত্যু আমাদের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন রেখে গেল— শ্রমিক কি কেবল মেশিন? তাদের মানবিক অনুভূতি, যন্ত্রণা, দুর্বলতা কি কোনো মূল্য রাখে না? আজ প্রয়োজন, এই নির্মমতা, এই অবহেলার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রতিবাদ। প্রয়োজন একটি কাঠামোগত পরিবর্তন— যেখানে শ্রমিকের জীবন, মর্যাদা এবং মানবাধিকার থাকবে সবার আগে।
আমরা দাবি জানাই: উৎপল তঞ্চঙ্গ্যার মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকের ন্যূনতম মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
অসুস্থ শ্রমিকের জন্য বাধ্যতামূলক চিকিৎসা সহায়তা ও ছুটি প্রদানের আইনি নিশ্চয়তা তৈরি হোক।
উৎপল ভাইয়ের মৃত্যু যেন নিষ্ফল না যায়।
শ্রমিকের জীবন নিয়ে নির্মমতার অবসান চাই।
মানবিকতা হোক শ্রমনীতির প্রথম শর্ত

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট