বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন আবুল মনসুর আবদুল্লা (পান্থ তালুকদার) ফাতেমা ফাইরুজের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ ! কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা সাতক্ষীরায় পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন  গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন  রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩ গোবিন্দগঞ্জে বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধ গ্রেফতার  ! প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনুপস্থিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিশেষ সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সিরাজগঞ্জে ১,৬৭১টি সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন

বই কথা—পর্ব ১

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৪

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কথা কী, যদি কেউ আমাকে এ প্রশ্ন করে, আমার উত্তর একটাই—বই কথা। জীবনের নানা সময়ে বই নিয়ে লিখেছি, ভেবেছি, আর বারবার মুগ্ধ হয়েছি। তবু বই নিয়ে লেখার তৃষ্ণা কখনো ফুরায়নি। সম্প্রতি ফেসবুকে পড়া একটি গল্প আমাকে আবারও নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই গল্পের উৎসাহ থেকেই আজ এই ধারাবাহিক কলামের শুরু করছি।
ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরে এক বইপ্রেমিকের গল্প। শহরের এক কোণে ছিল একটি ছোট্ট বইয়ের দোকান। দোকানটির মালিক ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ বইপ্রেমী। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দোকান ভাড়ার টাকাই তাঁর হাতে নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দোকান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে ভেঙে পড়া মানুষেরা যেমন নতুন কিছু শুরু করার সাহস পান, তিনিও তাই করলেন। তিনি ৫০০ মিটার দূরে আরেকটি ছোট্ট জায়গা ভাড়া নিলেন। কিন্তু এখানে এল আরেকটি সমস্যা। পুরনো দোকানের অগণিত বই নতুন দোকানে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর গাড়ি ভাড়া করার মতো সামর্থ্যও ছিল না। অসহায় অবস্থায় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেদন জানালেন। লিখলেন তাঁর সমস্যার কথা। তিনি জানতেন না, তাঁর এই বার্তা বইপ্রেমীদের হৃদয়ে এমনভাবে ছুঁয়ে যাবে। আশ্চর্যের বিষয়, কয়েকশ মানুষ তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এলেন। তারা সবাই ছিলেন বইয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসায় অভিভূত মানুষ।
একদিন সকালে ওই বইপ্রেমীরা জড়ো হলেন। শারীরিকভাবে সক্ষম-অক্ষম, বৃদ্ধ-যুবক, নারী-পুরুষ—সবাই এক সারিতে দাঁড়ালেন। তাঁরা একটি মানববন্ধনের মতো লাইন তৈরি করলেন। সারিবদ্ধভাবে একে একে বইগুলো হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া শুরু করলেন। এভাবে পুরনো দোকানের প্রতিটি বই নতুন দোকানে পৌঁছে গেল।

এ দৃশ্য শুধু ইংল্যান্ড নয়, সারা পৃথিবীর জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বইপ্রেমীরা তাঁদের ভালোবাসা দিয়ে প্রমাণ করলেন, অর্থ নয়, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা আর মানবিকতা। এই গল্পটি আমাকে ভাবিয়ে তুলল। যদি এমন ঘটনা আমাদের দেশে ঘটত, আমরা কী করতাম? হয়তো বলতাম, “কিছু চাঁদা তুলে দিই, যাতে তিনি ভাড়ার গাড়ি এনে বইগুলো স্থানান্তর করতে পারেন।” এতে হয়তো সমস্যার সমাধান হতো, কিন্তু সে সমাধান এত সুন্দর, এত মানবিক হতো না। ইংল্যান্ডের বইপ্রেমীরা যা করেছেন, তা শুধু সহযোগিতা নয়, এক অসাধারণ উদাহরণ। তাঁরা নিজেরাই বই বহনের দায়িত্ব নিয়ে বইয়ের প্রতি ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আমরা কি কখনো এমন উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি না? আমরা কি কখনো বই নিয়ে এমনভাবে হাত মিলিয়ে, একসঙ্গে কাজ করে এক মানবিক পরিবেশ তৈরি করতে পারি না? আমাদের সমাজেও এমন বইপ্রেমীদের প্রয়োজন, যাঁরা অর্থ বা সুবিধার কথা নয়, বরং ভালোবাসা আর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। বই আমাদের সভ্যতার মেরুদণ্ড। প্রতিটি পৃষ্ঠা আমাদের জ্ঞানের আলো ছড়ায়, মানবিকতার বোধ জাগিয়ে তোলে। তাই বইয়ের প্রতি এমন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার উদাহরণ সত্যিই আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
ইংল্যান্ডের বইপ্রেমীদের এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একা নয়, আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু বদলাতে পারি। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা আর বইয়ের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

চলবে…

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews