বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুরের মর্মান্তিক মৃত্যু ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল তাসফিয়া মৃত্যুর তিন দিনের ধোঁয়াশা: নেপথ্যে সৎ বাবা? ছেলের ফাঁসি চান ‘মা’! রূপসায় আবারও মামুন নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ. আওয়ামী লীগের চারবারের সাবেক এমপি মারা গেছেন কালীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা গৌরনদীতে ব্র্যাকের ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সমাপনী সভা কক্সবাজারে কয়েক মিনিটে উড়ে গেল  লক্ষ লক্ষ  টাকার শুটকি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ খোকসায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অনুদানের টাকা আত্মসাৎ: দুর্নীতির বৃত্তচক্র ভাঙার আহ্বান

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে সরকারের অনুদান আত্মসাতের এক ভয়াবহ উদাহরণ সাম্প্রতিককালে আলোচিত হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরকারী অনুদানের (জি ও বি গ্রান্ট) ৪র্থ কিস্তি ছাড়ের সময় তিন লক্ষ টাকা “বিবিধ খরচ” হিসেবে দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই অর্থ সরাসরি নগদ পাঠানো হয় এস এ পরিবহন সার্ভিসের মাধ্যমে, যা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির কাছে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এই তথাকথিত “বিবিধ খরচ” আসলে কী, তার সঠিক হিসাব কিংবা স্বচ্ছতা নেই। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এখানে ক্ষমতায় থেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে চলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা নির্বাচনে নিজেদের আধিপত্য কৌশলে ধরে রেখেছেন, যাতে তাঁদের ক্ষমতার মেয়াদ অব্যাহত থাকে। হাসপাতালের তহবিল পরিচালনা ও সরকারি অনুদান বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেট অবৈধ উপায়ে দুর্নীতি এবং অনিয়ম করে চলছে। যেকোনোভাবে “বিবিধ খরচ” দেখিয়ে অনুদানের টাকা তোলার নামে জনগণের অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। দুর্নীতির এই মর্মান্তিক উদাহরণে সাধারণ জনগণ হতবাক ও ক্ষুব্ধ। অনেকেই মনে করছেন, হাসপাতালটি একপ্রকার ব্যক্তিগত জমিদারবাড়িতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে থাকা ব্যক্তিরা সব ধরনের বিলাসবহুল সুবিধা ভোগ করছেন। হাসপাতালের গাড়ি সারাদিন তাঁদের কাজে ব্যবহৃত হয়, ঢাকায় যাতায়াতেও তাঁরা বিমানের সুবিধা পান। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ঢাকায় গোপনীয় লেনদেন ও নগদ অর্থপ্রাপ্তির জন্য এস এ পরিবহনের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করে আনতে এবং হাসপাতালটিকে রক্ষা করতে প্রয়োজন কঠোর তদন্ত। দৈনিক সকালের সময়, দৈনিক ভোরের আওয়াজ এবং ইংরেজি দৈনিক The Daily Banner-এর তদন্তে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, যা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপকর্মের বাস্তব রূপ। সময় এসেছে, যে সমাজসেবার নামে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁরা সত্যিকার অর্থে দায়িত্ব পালন করবেন, নাকি পদত্যাগ করে প্রকৃত সমাজসেবকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেবেন। জীবন ও দাতা সদস্যদের উচিত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদে প্রকৃত সমাজসেবকরা যেন নেতৃত্বে আসতে পারেন তা নিশ্চিত করা। শুধুমাত্র তখনই এই প্রতিষ্ঠানটি জনগণের প্রতি আসল সেবাদান করতে পারবে এবং এ ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে সমাজে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে সক্ষম হবে। এখনই সময়, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিচ্যুত করে প্রকৃত সেবক ও নিষ্ঠাবানদের দায়িত্বে নিয়ে আসার, যাতে জনগণের অর্থ জনগণের সেবায় ব্যবহৃত হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় একটি সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews