1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
দাপুটে শাসক, বর্তমানের বন্দী: ফজলে করিম চৌধুরীর নিষ্ঠুরতার নির্মম চিত্র - দৈনিক ভোরের আওয়াজ
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ! মাদক সিন্ডিকেটের দখলে বটতৈল ! সামাজিক অবক্ষয়: বিপন্ন শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা ! সোনাইমুড়ীতে দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার-৩ ! সিলেটে অপরাধ জগতের অন্তরালে বাপ্পির ভয়ংকর ফাঁদ !  সিলেটে ঈদকে টার্গেট করে জাল নোট চক্র বাজার জাত করণে ৩ সদস্য সক্রিয় ! কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ! চাটখিলে ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গ্রাহকদের মানববন্ধন: স্মারকলিপি হস্তান্তর ! তারাগঞ্জে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ! চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ।

দাপুটে শাসক, বর্তমানের বন্দী: ফজলে করিম চৌধুরীর নিষ্ঠুরতার নির্মম চিত্র

মো. কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪

এই ছবিটি দেখলে মনে হতে পারে, এখানে শুয়ে থাকা মানুষটি একজন সাধারণ কারাবন্দী, যেন তার অপরাধের শাস্তি ভোগ করে নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু এই শান্ত চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর এক অতীত। এ মানুষটি ফজলে করিম চৌধুরী, যিনি একসময় রাউজানকে একটি দেওয়ালহীন কারাগারে পরিণত করেছিলেন। ক্ষমতার মত্ততায় অন্ধ এই ব্যক্তি ছিলেন শেখ হাসিনার অন্যতম অনুগত সেবক, যার মাধ্যমে তিনি রাউজানকে নিষ্ঠুরতার এক পীঠস্থান বানিয়েছিলেন। ফজলে করিমের ক্ষমতার অহংকার তাকে মানুষের প্রতি যে নির্মম হতে প্রণোদিত করেছিল, সেই ক্ষমতা আজ আর নেই তার হাতে। এখন তিনি কারাগারে বন্দী, অসহায় এক বন্দী, যিনি এক সময় নিজেকে অপরাজেয় ভাবতেন। ফজলে করিমের অপরাধ সাম্রাজ্য শেখ হাসিনার আশীর্বাদে ফজলে করিম চৌধুরী অপরাধ সাম্রাজ্যের রাজা হয়ে উঠেছিলেন। তার জন্য কোন আইন ছিল না, কোন সীমা ছিল না। তার আদেশে পুলিশ কর্মকর্তারা ছিলেন শুধু তার সেবক, তার নির্দেশে নিরপরাধ মানুষদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে আটকে রাখা হতো। একসময় তার হাতে ছিল ক্ষমতা আর প্রভাব, যা দিয়ে তিনি অসংখ্য নিরীহ মানুষকে অত্যাচার করেছেন। তার নির্দেশে ওসি কেফায়েত উল্লাহ, ওসি হারুন, ওসি জাহেদ এবং তাদের মতো কর্মকর্তারা নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রাউজানের মানুষদের মুক্তি কেড়ে নিয়েছিলেন। তাদের অত্যাচার ও নির্যাতনের চিহ্ন বহন করে আজো অনেক পরিবার।

নির্দয় হত্যার গল্প ফজলে করিমের নির্দেশে যে ভয়াবহ অত্যাচারের গল্পগুলো আজো কাঁপায়, তার মধ্যে সবচেয়ে নির্মম ঘটনাগুলোর একটি হল নুরুল আলম নুরুর নির্মম হত্যাকাণ্ড। নুরু ছিল একজন নিরীহ মানুষ, যাকে তার নির্দেশে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এনে নির্যাতন করা হয়। তাকে সারা রাত অত্যাচার করা হয়, তারপর মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল ফজলে করিমের নিজস্ব মাফিয়াসুলভ মনোভাব। তার নির্দেশে নুরুকে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যেন এই সমাজের কোন বিচার কিংবা প্রশ্ন তার দিকে তোলা না হয়। কিন্তু সেই দিনগুলি আজ অতীত, আর সেই ভয়ংকর অত্যাচারীর পতন আজ তার নিজের হাতে লেখা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস

আজ, এই ছবিতে তাকে দেখে বোঝা যায়, সে আর সেই ক্ষমতাধর ব্যক্তি নয়। ফজলে করিম চৌধুরী আজ একজন বন্দী। ক্ষমতার অহংকারে তিনি ভাবতেন, তাকে কেউ হারাতে পারবে না। কিন্তু এখন তিনি নিজের পতনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে। ভারতের সীমান্তে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়া সেই শাসক এখন কারাগারে, সাধারণ কয়েদির মতো শুয়ে আছেন। এখন আর নেই সেই বিলাসিতা, নেই সেই ক্ষমতার দম্ভ, যা দিয়ে তিনি এক সময় চাইলেই নিরীহ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিতেন। এখন তাকে কারাগারের একটি ছোট্ট বিছানায় শুতে হয়, ঠিক তেমনই যেমন একদিন তার নির্দেশে বন্দী হওয়া নিরপরাধ মানুষেরা শুয়ে থাকত।অপরাধের পরিণতি

তার নির্যাতন এবং অত্যাচারের গল্পগুলো আজ অনেকের মুখে মুখে, এবং সেই সব নিরীহ মানুষের চোখে আজো তার প্রতি ঘৃণা। রাউজানবাসীর মনে এখনও রয়ে গেছে সেই স্মৃতি, যখন তারা তার আতঙ্কে প্রতিদিনের জীবনযাপন করত। একসময় যিনি রাউজানের রাজা ছিলেন, আজ তিনি নিজেই একটি খোলা কারাগারের শৃঙ্খলে বাঁধা। আজ তার মনে পড়ে সেই নিরীহ মানুষদের, যাদের তিনি বছরের পর বছর কষ্টে রেখেছেন, যাদের উপর তিনি অত্যাচার চালিয়েছেন।

ক্ষমতার অভিশাপ ফজলে করিম চৌধুরী হয়তো আজ ভাবছেন, তার অপরাধের ভার কতটা গভীর। একদিন যারা তার নির্দেশে নির্যাতিত হয়েছিল, তারা হয়তো আজো তার প্রতি অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে। একজন ক্ষমতাবান শাসক যখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধ করে, তখন সেই অপরাধের অভিশাপ তার জীবনে ফেরত আসে। ফজলে করিমের জন্য এ কারাগার শুধু একটি স্থান নয়, এটি তার অতীত পাপের প্রতিফলন। একদিন যিনি নিজের ইচ্ছেমতো মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করতেন, আজ তার জীবন নিয়েই খেলছে এই নির্মম সময়।

কোনো একদিন তিনি হয়তো ভাবতেন, তার পতন আসবে না। কিন্তু আজ সেই নির্মম সত্য তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতার দম্ভ এবং অহংকারের চূড়ান্ত পরিণতি শুধুই পতন। তিনি আজ নিজের অপরাধের ফল ভোগ করছেন, সেই অপরাধ যা দিয়ে তিনি রাউজানের মানুষদের জীবনে নিয়ে এসেছিলেন অন্ধকার। আজ সেই অন্ধকারের মাঝেই তিনি নিজেই বন্দী হয়ে পড়ে আছেন। ফজলে করিম চৌধুরীর পতন কেবলমাত্র তার ব্যক্তিগত পরাজয় নয়; এটি এক উদাহরণ, যে ক্ষমতার মোহে মানুষ কতটা নীচে নামতে পারে এবং সেই ক্ষমতা একদিন তাকে ধ্বংস করে দেয়। তার কারাগারে ঘুমন্ত চেহারার এই ছবি এক নিষ্ঠুর এবং ন্যায়বিচারের চিত্র তুলে ধরে। ফজলে করিম চৌধুরী “এক নিষ্ঠুরতার প্রতীক, যার নামের ওপর শত শত থুথু”ফজলে করিম চৌধুরী—নামটি শুনলে রাউজানবাসীর মনে ওঠে এক আতঙ্কের স্মৃতি। এই মানুষটি ক্ষমতার জোরে হয়ে উঠেছিলেন এক দুর্ধর্ষ শাসক, যার অত্যাচারের কাহিনী শোনার মতো নয়, বরং মনে রাখতে হয়। শেখ হাসিনার আশীর্বাদে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অপরাধ সাম্রাজ্যের এক শক্তিশালী শাসক, যার ভয়ংকর চেহারা ছিল অন্তরের চেয়ে বহিরঙ্গে বেশি ভীতিপ্রদ। নিজের গোপনীয় বাড়ীতে বসে আরামে সুন্দরী নারীদের সঙ্গে উল্লাসে মত্ত থাকতেন, চারদিকে ছড়িয়ে দিতেন অপরাধের ভয়ংকর রূপ।

শত শত কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য ফজলে করিম চৌধুরী শুধুমাত্র ক্ষমতার দম্ভে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তার অপরাধের সাম্রাজ্য বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শত শত কোটি টাকার মালিক, যা ছিল সাধারণ মানুষের রক্ত, ঘাম, এবং কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত। তার অবৈধ সম্পদ এমন এক অন্ধকারের প্রতীক, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছিল। অবৈধ লেনদেন, দুর্নীতি, এবং জমি দখল তার অপরাধের মাত্রা আরও গভীর করেছিল। তিনি অবৈধ সম্পদের মালিকানায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন, যা সাধারণ মানুষের প্রতি তার অবজ্ঞার প্রতীক। নিরীহ মানুষের আর্তনাদে ভরপুর তার পথ

তার ক্ষমতার ভয়াবহতায় কেঁপে উঠেছিল রাউজানের মাটি। হাজারো মানুষ তার হাতে নির্যাতিত হয়েছে, যারা আজো তাকে অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছেন। ফজলে করিম নিজেকে চেঙ্গিস খানের মতো শক্তিশালী ভাবতেন; তার আদেশে খুনিরা নিরীহ মানুষকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করত। স্থানীয় পুলিশও ছিল তার অত্যাচারের এক সহযোগী শক্তি, যারা মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে আটকে রেখে করেছিল জীবনযাপন দুর্বিষহ। তার অত্যাচার এবং অপরাধের কাহিনীগুলো শুনলে মনে হয়, মানবতার শত্রু হিসেবে তিনি চেঙ্গিস খানকেও হার মানিয়েছেন। তার অপরাধের হাতে রক্ত লেগে আছে, যা কোনোদিন মুছে যাবে না।

ঘৃণার প্রতিমূর্তি আজ, যখন রাউজানের মানুষ তাকে মনে করে, তাদের মনে উঠে আসে ঘৃণা আর বিদ্রূপের প্রতীক। তার নামে থুথু নিক্ষেপ করা হয়, কারণ তিনি শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি, তিনি মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিলেন। ক্ষমতার মত্তায় তিনি বুঝতে পারেননি যে দিন শেষে, সাধারণ মানুষ তার ওপর ঘৃণার থুথু নিক্ষেপ করবে। তার প্রতিটি অপকর্মের দাগ মানুষের মনে গভীরভাবে গেঁথে গেছে। তার অপরাধের জন্য আজও তার নাম শুনলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের অন্তরের ঘৃণার প্রতিফলন ঘটে। নিষ্ঠুরতার ইতিহাস ফজলে করিম চৌধুরীর শাসনকাল ছিল এক নির্দয় নিষ্ঠুরতার প্রতীক। তার শাসনে রাউজানবাসী মনে করেছিল, তারা কোনো দেওয়ালহীন কারাগারে বাস করছে। সাধারণ মানুষ যেন তার চোখের সামনে কেবলই জুলুম আর অত্যাচারের প্রতিক্রিয়া। তার ক্ষমতার বলি হয়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, বাচ্চারা হারিয়েছে তাদের পিতাকে, স্ত্রী হারিয়েছে তাদের স্বামীকে। আজ তার অপরাধের বলি হয়ে যাওয়া মানুষের আত্মার আর্তনাদ ঘুরে ফিরে আসে।অপরাধীর পতন আজ তিনি একটি ছোট্ট কারাগারে শুয়ে আছেন, যেমন একদিন তার নির্দেশে অসংখ্য নিরীহ মানুষ বন্দী ছিল। তার অপরাধের প্রতিটি কাজের জন্য, তার উপর আজ এই নির্মম পরিণতি এসেছে। সে আর সেই ক্ষমতাবান মানুষ নয়, আজ তিনি শুধু একজন বন্দী। তার উপর আজো মানুষ থুথু নিক্ষেপ করে, এবং তারা মনে মনে আশা করে, তার মত অপরাধীর পতন যেন আরো গভীর হয়। তার নামে মানুষের অন্তরের ঘৃণা তার জন্য চিরস্থায়ী এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গল্প শুধু ফজলে করিম চৌধুরীর নয়, এটি সেই সব অত্যাচারী শাসকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ক্ষমতার দম্ভে মানুষ কতটা নীচে নামতে পারে, এবং সেই ক্ষমতার অভিশাপে তার পতন আসতে বাধ্য।

ফজলে করিমের জীবনের এক চমকপ্রদ অধ্যায় ছিল এই আদালতে উপস্থিত হওয়া। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা, আর অসহায়ত্বের সঙ্গী হয়ে বেঁচে থাকা এই মানুষটির জন্য আদালত যেন তার জীবনের শেষ মঞ্চ। এদিন আদালতের প্রতিটি চোখ আর মনের দৃষ্টি তাকে ঘিরে ছিল।

তার প্রাক্তন স্ত্রী, একজন তালকপ্রাপ্ত আইনজীবী, অকস্মাৎ সেখানে হাজির হন। মায়াবী ও করুণ চোখে তিনি ফজলে করিমের দিকে তাকান, যেন তার অতীতের সকল স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত হয়। লোকজনের মুখে নানা প্রশ্ন—এই সহানুভূতি কি শুধুই প্রাক্তন স্বামীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ, নাকি প্রেমের কোনো চিরন্তন প্রতিক্রিয়া? নাকি সন্তানের মায়ের দায়িত্ববোধ তাকে বাধ্য করেছে? মানুষ বিস্মিত, গল্পেরা দানা বাঁধে। কেউ কেউ বলেন, এ যেন এক বাংলা সিনেমার দৃশ্য, যেখানে সবকিছু নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। হয়তো সন্তানদের জন্য, হয়তো পুরোনো বন্ধনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা থেকেই এই আইনজীবী স্ত্রী প্রাক্তন স্বামীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তবে, সবার মনে একটাই প্রশ্ন, এটি করুণা নাকি ভালোবাসা? সন্তানের বাবার প্রতি দায়িত্ববোধ, নাকি একান্ত কোনো অজানা প্রতিশ্রুতি?

এই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে, আদালত কক্ষটি যেন তাদের দুজনের নীরব সাক্ষাৎকারস্থল। একদিকে ফজলে করিমের নিঃসঙ্গতার জীবনের আভাস, অন্যদিকে তার প্রাক্তন স্ত্রীর রহস্যময় সমর্থন। দুজনেই একে অপরের সামনে চুপ, শুধু তাদের চোখের ভাষাই যেন সমস্ত উত্তর দিয়ে যায়।

লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট