সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগো উন্মোচন ও অভিষেক বাউফলে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ফেনী মুহুরী লিও ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের ১ বছরের সাফল্য! রহনপুর মেডিকেল মোড়ে ভোক্তা অধিকারের কঠোর অভিযান! পাওনা টা’কা নিয়ে বিরোধ, ভাইয়ের বি’রুদ্ধে বোনকে হত্যার অভিযোগ! সিলেট জুড়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং লাগামহীন, অতিষ্ঠ জনজীবন! দিনাজপুরে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের নবনির্বাচিত কমিটির মতবিনিময় গোমস্তাপুরে বোয়ালিয়া ইউপি গেটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ! গাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

নুরু হত্যাকাণ্ড:  রেজাউল করিম ও বালু কামাল হত্যাকারিদেরকে অর্থায়ন করতো!

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪




রাউজানে আলোচিত-সমালোচিত কুখ্যাত খলনায়ক ফজলুল করিমের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম শহরের গনি বেকারি এলাকার বাসা থেকে পুলিশ এসআই শেখ জাবেদ ও সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে রাউজানে নির্মমভাবে হত্যা করে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এই ঘটনায় রাউজানের তৎকালীন ওসি ক্যাপায়েতকে বাদ দিয়ে ফজলুল করিমকে প্রধান আসামি করে গত ১ সেপ্টেম্বর চকবাজার থানায় অপহরণপূর্বক হত্যা মামলা দায়ের হয় (মামলা নম্বর-১, তারিখ ১/৯/২০২৪; ধারা ৩০২/৩৬৪/৩৪)।

আসামির তালিকা

এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন ফজলুল করিম, এসআই শেখ জাবেদ, বাবুল মেম্বার, নাসের ওরফে টাইগার নাসের, মো. লিটন, তৈয়ব, ফরিদ, মামুন, আবু জাফর রাশেদ, ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বাছইন্যা, সেকান্দর, জসিম, খালেক, বাবুল, মো. রব্বানী, হাসান মোহাম্মদ নাসির, মো. মোরশেদ এবং আরও ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, এই সন্ত্রাসীরা রাউজানে তাদের নেতার নির্দেশে প্রতিনিয়ত হত্যা, রাহাজানি, নারী ধর্ষণ, অপহরণ এবং চাঁদাবাজি করতো। বিশেষ করে, কর্ণফুলী নদীর বালুচর নিয়ন্ত্রণের সময় তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে রেজাউল করিম চৌধুরী ও বালু কামালের। বালু চুরি ও অপরাধজগতের যোগসূত্র

রেজাউল করিম চৌধুরী, যিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হন, কর্ণফুলী নদীর বালুচর নিয়ন্ত্রণ করে বালু ব্যবসা শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ-এর মাধ্যমে তিনি বালু চুরি করেন এবং সেই কারণে তিনি “বালু চৌধুরী” নামে পরিচিত। তার সহযোগী ছিলেন কালুরঘাটের বালু কামাল, যিনি মূলত বালু চোরের নেতা। তারা মিলে রাতের বেলায় বালু চুরি করে বিক্রি করতেন এবং বালু চুরির অর্থ ভাগাভাগি করতেন।

বৈধ বালুর ব্যবসা শুরু করলেও পরে  এই বালু চুরির মাধ্যমে রেজাউল করিমের সঙ্গে বালু কামালের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।  রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক প্রভাব রেজাউল করিম, শেখ হাসিনার আশীর্বাদে রাতারাতি মেয়র হওয়ার পর, ফজলুল করিমকে খুশি করার জন্য নোয়া পাড়ার কিলার বাহিনীকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা দিতেন। এই অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে অপরাধ কর্মে উৎসাহিত করতেন। অভিযোগ রয়েছে, নুরুকে হত্যার পরও রেজাউল করিম ও বালু কামাল এই সন্ত্রাসীদের আনন্দ-উল্লাসের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন।

সিটি করপোরেশন ও অবৈধ কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে রেজাউল করিম শত শত কোটি টাকার কাজ বালু কামালের নামে বরাদ্দ দেন। এক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক ছিলেন রেজাউল করিম, তবে কামাল তার থেকে একটি অংশ পেতেন বলে জানা যায়। সিটি করপোরেশনের গোপন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ঠিকাদারদের বিল আটকে থাকলেও কামালের বিল আগাম পরিশোধ করা হতো।

কর্ণফুলী নদীর নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন রেজাউল করিম ও বালু কামাল কর্ণফুলী নদীতে অবৈধভাবে বালু বিক্রির একাধিক কেন্দ্র পরিচালনা করেন। একে খানের ম্যাচ কারখানার পাশে তাদের একটি বড় আকারের অবৈধ বালু বিক্রি সেন্টার রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। রেজাউল করিম চৌধুরী বালুর ব্যবসা শুরু করেছিলেন নুর সিন্ডিকেটের নামে বন্দর থেকে ইজারা নেওয়া নোয়াপাড়া বালুচরের মাধ্যমে,

অভিযোগ রয়েছে, নুর সিন্ডিকেটের বালু ব্যবসা থেকে রেজাউল করিম প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। রেজাউল করিম ও বালু কামাল নোয়া পাড়ার সন্ত্রাসীদের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর ব্যবসায়ী ও নোয়া পাড়ার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। এ বিষয়ে সমাজের সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews