
চাঁদাবাজির মামলায় বাউফলের দুই সাংবাদিক কারাগারে
গোলাম কিবরিয়া, বাউফল (পটুয়াখালী)
চাঁদাবাজির মামলায় পটুয়াখালীর বাউফলের দুই সাংবাদিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন, এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এবং মো. রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মিসকেস নং ১১৮৯/২৬-এর শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন (৫) জামিনের আবেদন করেন। এর আগে উচ্চ আদালত আসামিদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রোববার তাঁরা আদালতে হাজির হন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক, মো. রিয়াজসহ আরও কয়েকজন বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান। তাঁরা নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী রতন মন্ডলের অভিযোগ, টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দেন। পরদিন আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের কারণে পালিয়ে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তাঁদের সংসারে আট মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পুরোনো ওই ঘটনাকে সামনে এনে অভিযুক্তরা পরিবারটির কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রতন মন্ডল ২৮ জুলাই বাউফল থানায় মামলা করেন। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের আজকের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী রতন মন্ডল বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
রোববারের আদালতের আদেশের পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।