
বাবার মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়লেন স্ত্রীসহ চার সন্তান
মো. গিয়াস উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালি (বালুর চর) গ্রামের মহসিন বেপারী বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের অভিভাবক মোঃ মহসিনের মৃত্যুতে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, এক মেয়ে ও তিন ছেলে শোকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তারা সবাই। মৃত মোঃ মহসিন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ০৪ নং চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের সোনালি (বালুর চর) গ্রামের মহসিন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। গত শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ২৪ রমজান (বিকাল ৪.৪৫ পিএম) তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মোঃ মহসিনের মৃত্যুতে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, বড় মেয়ে পারভিন বেগম, বড় ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন, মেজো ছেলে মোঃ নুরউদ্দীন বাচ্চু এবং ছোট ছেলে মোঃ মাকছুদুর রহমান গভীর শোক ও বেদনায় ভেঙে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের অভিভাবক ও পরিবারের প্রধানকে হারিয়ে স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বড় ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন বাবার মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর সময় বড় ছেলের সামনে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় শোকের ভার আরও গভীর হয়ে ওঠে। তবে মেজো ছেলে মোঃ নুরউদ্দীন বাচ্চু ও ছোট ছেলে মোঃ মাকছুদুর রহমান প্রবাসে অবস্থান করায় বাবার শেষ বিদায়ের সময় সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি। প্রিয় বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে না পারার বেদনা তাদের শোককে আরও ভারী করে তুলেছে। একজন অভিভাবককে হারানোর শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে স্ত্রী, মেয়ে ও তিন ছেলে এখন স্বজনহারা বেদনায় দিন কাটাচ্ছেন।
ছোট ছেলে মাকছুদুর রহমান দেশে এসে বাবাকে না পেয়ে,বাবার কবরস্থানের আশেপাশের পাগলের মতো ঘুরছে কিন্তু বাবাকে আর দেখছে না, বাবার ডাকও আর শুনছে না। বড় ভাই তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে । কি বলে দিবে ছোট ভাইকে সান্ত্বনা।
শোকসন্তপ্ত সন্তানরা তাদের প্রিয় বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। তারা বলেন, আল্লাহ যেন তাদের প্রিয় বাবার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান, জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।মহান আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমিন।