শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
জয়পুরহাটে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিশাল জনসভা  ! দিনাজপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় প্রতিহত  ! নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, মিয়ানমারের ৮ নাগরিক আটক ! ডুবেছে কক্সবাজার   খাবারের  হাহাকার  ! সাতক্ষীরা পৌর ৭নং ওয়ার্ডে কামরুলের বিরুদ্ধে মাদককারবারিদের প্রশ্রয় ও চাঁদাবাজির ! সম্পত্তি ও সম্পদের লোভে নির্যাতিত এক নারীর আর্তনাদ ও সংবাদ সম্মেলন! হাটহাজারী এলাকায় বন্যার্তদের উদ্ধার ও সহায়তায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোনারগাঁয়ে শপিং মলে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার ! বিএনপি সরকার বারবার ফিরে আসে  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন! রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

ডুবেছে কক্সবাজার   খাবারের  হাহাকার  !

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ডুবেছে কক্সবাজার   খাবারের  হাহাকার  !

 

 মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ আমিন, কক্সবাজার

 

অতি ভারী বৃষ্টির পানি আর দুর্ভোগে বিপর্যস্ত কক্সবাজার। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লাখো মানুষ। কোথাও খাবারের সংকট, কোথাও নেই পর্যাপ্ত সহায়তা-দুর্বিষহ সময় পার করছেন দুর্গতরা। প্রশাসন বলছে, শুরু হয়েছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। সরজমিনে দেখা যায়-কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, গর্জনিয়া,কচ্ছপিয়াও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যেদিকে থাকায় সেদিকেই পানি আর পানি-ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, ক্ষেত-খামার, মৎস্যঘের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে বন্যাকবলিত মানুষেরা। রামুর গর্জনিয়া  এলাকার বাসিন্দা মুফিজুল আলম বলেন, সত্যি কথা বলতে, আমরা এখন চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য বাইরে বের হলেও যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা খুবই দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া  ইউনিয়নের বাসিন্দা  আবছার বলেন, আমাদের বাড়িতে কোমরসমান পানি। গত দুই দিন ধরে পুরো বাড়ি পানিতে তলিয়ে থাকায় রান্নাবান্না সম্পূর্ণ বন্ধ। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের খাদ্যসহায়তা বা ত্রাণ পাইনি। চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, গত তিন দিন ধরে আমরা পানিবন্দি হয়ে ঘরে আটকে আছি। শুকনো খাবারের পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ নলকূপ ও পানির উৎস বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির আহমদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। খাদ্যসংকটের কারণে অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন, অনেকেই না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর কাঠির মাথা এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। ডুবে গেছে আশপাশের গ্রামের পর গ্রাম। পানিবন্দি মানুষ খাবারের সন্ধানে নৌকা ও ঠেলাগাড়িতে ছুটছেন। তবে অভিযোগ, এখনো অনেক এলাকায় পৌঁছায়নি সরকারি সহায়তা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। রামুর কাঠির মাথা এলাকার বাসিন্দা করিম সিকদার বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ আসেনি। এলাকায় এখনও অনেক পানি জমে আছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে, আর বাড়িঘরেও পানি ঢুকে মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা রশিদ আহমদ বলেন, গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে আমাদের এলাকায় পানি জমে আছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ত্রাণ বা সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা আমরা পাইনি। পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে। তবে প্রশাসনের দাবি, দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আকতার নিলয় বলেন, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র এবং পানিবন্দি এলাকায় অবস্থানরত মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। বিশেষ করে শুকনো খাবার সরবরাহে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে রান্না করা খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করা বেশ কঠিন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং বন্যায় আটকে পড়া ও অসহায় মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রামু উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দুই থেকে আড়াই হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষকে সেখানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত তিনজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ নির্দেশনা হলো, বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং যেসব বাঁধ বা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আমরা এখানে আছি। পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর (এক্সইএন) সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আজাদ রহমান বলেন, চলমান বন্যায় জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনায় মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও ২০ লাখ টাকা ও ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা আগামী রোববার বা সোমবার উত্তোলনের পর উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের চাহিদা পাঠিয়েছে। তবে এ বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews