রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে তাণ্ডব: চাঁদাবাজ ‘বোমা সেলিম’ ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী হাটহাজারীতে শতবর্ষী হাজারি খাল পুনর্দখলের চেষ্টা, উদ্বেগে এলাকাবাসী ! গাইবান্ধার বাদিয়াখালীতে দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত, দেড় শতাধিক রোগীর সেবা গ্রহণ জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন জয়পুরহাটে স্ত্রীকে মারপিট করে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাটে অসহায় ৪৩০ পরিবারের  মাঝে ত্রাণের ২০ কেজি করে চাল বিতরন ! ঘোড়াঘাটে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ! মাজার ও দরগাহ শরীফের আয়-ব্যয়ের হিসাব সরকারি কোষাগারে নেয়ার দাবি: জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের মানববন্ধন ! অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই, মানববন্ধনে ছবি ব্যবহার গভীর ষড়যন্ত্র—ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন ! মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয়দের।

মাজার ও দরগাহ শরীফের আয়-ব্যয়ের হিসাব সরকারি কোষাগারে নেয়ার দাবি: জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের মানববন্ধন !

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

মাজার ও দরগাহ শরীফের আয়-ব্যয়ের হিসাব সরকারি কোষাগারে নেয়ার দাবি: জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের মানববন্ধন !

​সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরাণ (রহ.), বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) সহ সারা বাংলাদেশের সকল দরগাহ, মাজার ও খানকা শরীফের সুষ্ঠু পরিচালনা, পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ। একই সাথে মাজারগুলোর সকল প্রকার দান ও আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
​আজ ২৮ জুন (রবিবার) সকাল ১১টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখ সড়কে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এই দাবি জানান। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল মাওলানা এ এস এম মোস্তফা কামাল।
​৩ দিনে আয় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বছরে ১৬ কোটিরও বেশি! মানববন্ধনে পঠিত লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ সরোয়ার আলম মাজারের ডেগ ও দান বাক্স সিলগালা করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই সিলগালাকৃত দান বাক্স খোলার পর মাত্র তিন দিনেই নগদ টাকাসহ প্রায় ১৮ লক্ষ (১৭ লাখ ৬৫ হাজার) টাকা জমা পড়ে, যা পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হয়। নেতৃবৃন্দ আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র তিন দিনের হিসাব যদি প্রায় ১৮ লাখ টাকা হয়, তবে বিজ্ঞজন ও বিশেষজ্ঞদের মতে এক বছরের জমা ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি হওয়ার কথা। অথচ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো প্রকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী দিনের পর দিন ভোগ করে আসছিল। ​মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহতাব উদ্দিন জমাদার, অধ্যাপক মোঃ শামসুল আলম, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সিভিল রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হক, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এবং মোঃ মতিউর রহমান সরদার। ​বক্তারা বলেন, প্রায় ৭০০ বছর আগে ইসলাম প্রচারের জন্য এই আধ্যাত্মিক মনীষী ও ওলি-আউলিয়াগণ এদেশে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের অবর্তমানে এক শ্রেণীর মানুষ নিজেদের তাদের উত্তরসূরী ও বংশধর দাবি করে মাজারের খাদেম সেজে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের দেয়া গরু-ছাগল, নগদ টাকা ও দান-সদকার টাকা কোনো রকম স্বচ্ছতা ও হিসাব-নিকাশ ছাড়াই তারা নিজেদের মতো করে ভোগ করছে এবং বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে। এমনকি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ সরোয়ার আলম যখন এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন এবং দানবাক্স সিলগালা করেছিলেন, তখন কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে তাকে সিলেট থেকে বদলি করা হয়েছিল বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।
​মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত ৫ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা: ​১. আয়-ব্যয়ের হিসাব অডিট: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের সকল দরগা, খানকা ও মাজার শরীফের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত বা অডিট করা হোক। ২. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও শাস্তি: মাজার বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা দুর্নীতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক এবং তাদের অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে নেয়া হোক। ৩. কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ: সারা দেশের মাজার ও দরবার শরীফসমূহ পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও খাঁটি ইসলামী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ’ গঠন করা হোক। ৪. কমিটি গঠনের রূপরেখা: এই লক্ষ্যে ১০ এবং ৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়, যেখানে একজন ইসলামী বা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় অথবা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক/প্রিন্সিপাল, দুইজন বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি এবং আলেম-ওলামাদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। ৫. দান-অনুদান জনকল্যাণে ব্যবহার: মাজারের দান-অনুদানের অর্থ যেন কোনো ব্যক্তিবিশেষের পকেটে না গিয়ে দেশের এতিমখানা, মাদ্রাসা, দরিদ্র কল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যয় করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনের সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা এ এস এম মোস্তফা কামাল তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “মাজারগুলো পবিত্র স্থান, এগুলোকে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের চাঁদাবাজি ও বিলাসী জীবনযাপনের কেন্দ্রে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। আমরা অনতিবিলম্বে সরকারের কাছে একটি স্বাধীন মাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছি।” মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews