
জয়পুরহাট–২ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথের মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সাবেক সচিব আব্দুল বারী। প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর এটাই তাঁর প্রথম নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি।
স্থানীয়ভাবে “ডিসি বারী” নামে পরিচিত আব্দুল বারী ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে শহীদ জিয়ার আদর্শে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) যোগ দিয়ে মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালে প্রশাসনিক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব থাকাকালে তাঁকে সাময়িকভাবে দপ্তর থেকে বিরত রাখা হয় এবং সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৪ সালে পুনর্বহাল হয়ে ২০১৫ সালে অবসরে যান। চলতি বছরের এপ্রিলে অবসরোত্তর সচিব পদমর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা পান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাঁকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট–২ আসনে মনোনয়ন দেয়। প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই তিনি ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বালিশিব সমুদ্র গ্রামের এই রাজনীতিক নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহায়তা, গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, কৃষি উপকরণ সংকট নিরসন এবং সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলেন। প্রচারণায় বড় জনসভা এড়িয়ে ছোট বৈঠকে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কে গুরুত্ব দেন।কালাই থানা জিয়া পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার লায়নর বলেন, স্বাধীনতার পর এই আসন থেকে আর কোনো মন্ত্রী হয়নি। সৎ ও অভিজ্ঞ একজন মানুষকে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়ায় আমরা গর্বিত।
এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আব্দুল বারী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।