জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনের ফলাফল ঘোষণার পর একদিনের ব্যবধানে দুই ভিন্ন বার্তায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
ফল ঘোষণার সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির প্রায় ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বীর পাশে বসেই তাকে অভিনন্দন জানান সারজিস আলম। তাৎক্ষণিকভাবে তার এই সৌজন্যমূলক আচরণ উপস্থিত মহলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয়। অনেকেই একে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরিণত সংস্কৃতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেন।
তবে একইদিন রাতে চিত্র বদলে যায়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সব কেন্দ্রের ভোট পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্গণনার দাবি জানান। তার বক্তব্য, জনগণের রায় তিনি সম্মান করেন, কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম ও ফল পরিবর্তনের আশঙ্কা নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ভোটারদের আস্থা অটুট রাখতে পূর্ণাঙ্গ পুনর্গণনাই প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। এ অবস্থানের পর বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।সব মিলিয়ে, পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচন শুধু ভোটের ব্যবধানেই নয়, বরং ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সৌজন্য ও পরবর্তী সময়ের আনুষ্ঠানিক আপত্তি, এই দুই বিপরীত বার্তার দ্বৈততায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন দৃষ্টি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকে, যা এই বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে।