
জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স-এ ৬০টিরও বেশি দেশের নেতা অংশ নেন।জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস ‘নতুন ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারত্ব’-এর আহ্বান জানান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ইউরোপ’ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার শনিবার তার ভাষণে ইউরোপকে ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানাবেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
মের্ৎস বলেন, ‘ন্যাটোর অংশ হওয়া শুধু ইউরোপের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। আসুন, আমরা একসঙ্গে ট্রান্সআটলান্টিক আস্থা পুনরুদ্ধার করি।’ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপ এখন ন্যাটোর ভেতরে অধিকতর নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বেশি করে নিচ্ছে। ‘শক্তিশালী ন্যাটোর ভেতরে শক্তিশালী ইউরোপ মানে ট্রান্সআটলান্টিক বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়া,’ যোগ করেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্মেলনে অংশ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর মেরৎসের সঙ্গে ইউক্রেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গেও বৈঠক করেন। চীনা বার্তা সংস্থা জানায়, ওয়াং বলেন ‘সংলাপ সংঘাতের চেয়ে ভালো, সহযোগিতা দ্বন্দ্বের চেয়ে উত্তম।’ এছাড়া রুবিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আর্কটিক দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে ১৫ মিনিটের বৈঠক করেন। ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি জোরালো করায় ইউরোপুযুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে পড়ে।সম্মেলনের ফাঁকে মেরৎস, ম্যাক্রোঁ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও ন্যাটোর নেতারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানদের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব ভালো বিষয়… কিন্তু ইউরোপের নিজস্ব শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিরক্ষা শিল্প প্রয়োজন।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে ‘আগ্রাসী রাশিয়া’- কে মোকাবিলায় নতুন কাঠামো প্রয়োজন হবে।
সূত্র: অনলাইন