মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মেঘনায় পাগলা কুকুরের আতঙ্ক, দুই শিশুশিক্ষার্থীসহ আহত ৩ মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে স্বপ্ন বুনছেন চাষীরা সুনামগঞ্জে যুবদলের আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে সিংড়া জাতীয় উদ্যান রক্ষায় আট সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মেরিন ড্রাইভে পর্যটন প্রতষ্টানগুলো উচ্ছেদ আতঙ্কে, ‎গাইবান্ধায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন সোনারগাঁয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার! গাইবান্ধায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু: আইসোলেশন ছাড়াই চলছে চিকিৎসা দিনাজপুরে প্রথম জব ফেয়ারে চাকরিপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে  যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

মেঘনায় পাগলা কুকুরের আতঙ্ক, দুই শিশুশিক্ষার্থীসহ আহত ৩

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬



মেঘনায় পাগলা কুকুরের আতঙ্ক, দুই শিশুশিক্ষার্থীসহ আহত ৩, বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম নেই, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর

মোহাম্মদ আবুল কাশেম সরকার, মেঘনা (কুমিল্লা)

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে দুই শিশুশিক্ষার্থী ও এক বৃদ্ধাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সাতানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাতানী গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আঙিনায় থাকা টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়ে দুই শিশু শিক্ষার্থী কুকুরটির আক্রমণের শিকার হয়। একই সময় বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথে এক বৃদ্ধাও কুকুরটির কামড়ে আহত হন। পরে স্বজন ও গ্রামবাসীর সহায়তায় তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন সাতানী গ্রামের হাবিব মিয়ার মেয়ে হালিমা (৮), জাকার মিয়ার সাত বছর বয়সী নাতনি এবং স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার কামালের মা (৬০)।

স্থানীয় বাসিন্দা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, লাল রঙের কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। কুকুরটি সামনে যাকে পাচ্ছে, তার দিকেই তেড়ে যাচ্ছে এবং কামড়ানোর চেষ্টা করছে বলে তাঁরা জানান। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়গামী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব মিয়া বলেন, “পাগলা কুকুরটিকে দ্রুত আটক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”

আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা কুকুর নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেঘনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিফাত সুলতানা বলেন, সাংবাদিকের কাছ থেকেই তিনি বিষয়টি প্রথম জানতে পেরেছেন। তাঁর ভাষ্য, মেঘনা উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। এ ধরনের কার্যক্রম ঢাকা কেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বিভিন্ন উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এ কাজে যুক্ত থাকে। তবে মেঘনায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব কোনো সংগঠন নিয়েছে বলে তাঁদের জানা নেই। আগামী উপজেলা মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। আগামী উপজেলা মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, কুকুরের আক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কুকুরটি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উপজেলাজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews