মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মেঘনায় পাগলা কুকুরের আতঙ্ক, দুই শিশুশিক্ষার্থীসহ আহত ৩ মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে স্বপ্ন বুনছেন চাষীরা সুনামগঞ্জে যুবদলের আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে সিংড়া জাতীয় উদ্যান রক্ষায় আট সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মেরিন ড্রাইভে পর্যটন প্রতষ্টানগুলো উচ্ছেদ আতঙ্কে, ‎গাইবান্ধায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন সোনারগাঁয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার! গাইবান্ধায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু: আইসোলেশন ছাড়াই চলছে চিকিৎসা দিনাজপুরে প্রথম জব ফেয়ারে চাকরিপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে  যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

গাইবান্ধায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু: আইসোলেশন ছাড়াই চলছে চিকিৎসা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬



গাইবান্ধায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু: আইসোলেশন ছাড়াই চলছে চিকিৎসা

মির্জা গোলাম হাফিজ,গাইবান্ধা 

গাইবান্ধায় ডেঙ্গু সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই জেলার ডেঙ্গু চিকিৎসার প্রধান ভরসা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কোনো পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড বা নির্দিষ্ট স্থান নেই। ফলে সংক্রামক এই রোগে আক্রান্ত ও অন্য রোগের রোগীরা একই ওয়ার্ডে পাশাপাশি শয্যায়, বারান্দার সংকীর্ণ মেঝেতে এবং সিঁড়ির নিচে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতি রোগীর সঙ্গে দু-তিনজন স্বজন থাকায় ভিড় আরও বেড়েছে।

‎জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, মৌসুমের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুধু সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩১০ জন। নথিভুক্ত মৃত্যু একটি। সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান জানান, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে এখন ভর্তি ৪৫ জন। যাঁদের ২৫ জন জেনারেল হাসপাতালে আছেন। বেসরকারি ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ধরলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা বহু গুণ বেশি হওয়ার কথা।

‎হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের একটি বড়ো অংশ কাজ বা পড়াশোনার জন্য ঢাকায় ছিলেন। সেখানে আক্রান্ত হয়ে তারা নিজ জেলায় ফিরেছেন। ঢাকার খিলক্ষেতে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করা সত্তরোর্ধ্ব শাহাজাদা এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ (২১)। কিন্তু গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তাদের দুজনকে রাখা হয়েছে খোলা জায়গায়, সাধারণ রোগীদের পাশে।

‎হাসপাতালে প্রতিটি শয্যায় মশারি থাকার কথা, কিন্তু পর্যাপ্ত মশারি নেই। যেগুলো আছে জায়গার অভাবে সেগুলোও টানানো যাচ্ছে না। শিক্ষার্থী আসিফ জানান, ভর্তির দিন থেকে বিছানা পাননি, মশারিও দেওয়া হয়নি। দোতলার বারান্দায় ডেঙ্গু রোগী বৃষ্টি বেগমের (২২) পাশে মশারি গুছিয়ে রাখা, টানানো হয়নি। হার্টের রোগী আশরাফুল আলম লেবুর পাশেই চার ডেঙ্গু রোগী, তিনজনের মশারি নেই। মশারিহীন অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীর পাশে থাকা সুস্থ মানুষ ও অন্য রোগীরা তাই সরাসরি ঝুঁকিতে। প্রতিদিন ১৪ থেকে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় থাকছেন।

‎সরকারি নথিতে হাসপাতালটি ৫০ থেকে ধাপে ধাপে ১০০, ২০০ ও শেষে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। বাস্তবে ভৌত অবকাঠামো এখনো ৫০ শয্যার পুরোনো ভবনেই আটকে।

‎আরএমও ডা. আসিফ-উর রহমান বলেন, এ কারণেই ইচ্ছা থাকলেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো রোগী ভর্তি থাকেন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার আট থেকে নয় গুণ চাপ। বাড়তি রোগীদের জায়গা হচ্ছে বারান্দা, করিডোর ও মেঝেতে।

‎অব্যবস্থাপনা নিয়ে জানতে চাইলে আরএমও তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এই প্রশাসনিক চাপ তিনি নিতে পারবেন না। তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওপর থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় নিষেধ আছে। দ্বিতীয় প্রশ্নের পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষ ছেড়ে যান।

‎স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় ও ১২ দফা জরুরি নির্দেশনায় বলা আছে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড রাখতে হবে। প্রতিটি শয্যায় মশারি নিশ্চিত করতে হবে, চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং জরুরি পরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে দিতে হবে। গাইবান্ধায় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিত্র উল্টো।

‎হাসপাতালের বাইরের পরিবেশও নোংরা। ড্রেন ও নালায় জমে থাকা পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কয়েক মাস ধরে চত্বর পরিষ্কার হয়নি বলে অভিযোগ। জমা পানি এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

‎গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু এই পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে বড়ো ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এসব অভিযোগ সম্পর্কে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews