২০০ বছরের বাসিয়া মেলা ‘বউ মেলা’ নয়: লিফলেট বনাম প্রচলিত নিউজে বিভ্রান্তির পর্দা ফাঁস
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শত বছরের পুরোনো মেলাটি আসলে কী? প্রচলিত সংবাদে একে ‘বউ মেলা’ বলা হলেও মাঠে বিতরণ করা লিফলেট বলছে ভিন্ন কথা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে একটি ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সারাদিনব্যাপী উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলার আয়োজন করে বীরগঞ্জ উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতি। আয়োজক সমিতির সভাপতি শীতল মার্ডী ও সাধারণ সম্পাদক কমলা কান্ত হাসদার বরাতে প্রচার করা হয়, এটি ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাসিয়াহাট মেলা বা বউ মেলা’। শুধু কেনাকাটা বা বিনোদন নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা এখানে আসেন পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজতে। মেলার উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম।

আরও বলা হয়, মেলায় কাউকে পছন্দ করলেই সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে, এমন নয়। মেলাটি পরিচয় ও জীবনসঙ্গী নির্বাচনের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিসর হিসেবে কাজ করে।একই মেলা প্রাঙ্গণে দিনাজপুর জেলার আদিবাসী যুব সমাজের পক্ষ থেকে বিতরণ করা লিফলেটে মেলার সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
বাসিয়া মেলা বিশেষ করে সাঁওতালসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক বন্ধন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
লিফলেট অনুযায়ী মেলার উদ্দেশ্য ‘বউ খোঁজা’ নয়, বরং ৫টি মহৎ উদ্দেশ্য:
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা,ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা
মিডিয়া ও ইউটিউবাররা ভিউ বাড়ানোর জন্য বউ মেলা ও জীবনসঙ্গী খোঁজা শব্দ ব্যবহার করছে, যা লিফলেটের মতে অসম্পূর্ণ তথ্য ও ভিত্তিহীন বক্তব্য।
লিফলেটে সতর্ক করা হয়েছে, যাচাইবিহীন ছবি ভিডিও প্রচার থেকে বিরত থাকুন এবং আদিবাসী নারী-পুরুষের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। মাঠে দেখা গেছে, তরুণীদের বিনা অনুমতিতে ভিডিও করে বউ বিক্রি ক্যাপশনে প্রচার করা হচ্ছে।
প্রকৃত চিত্র: মেলা শুধু পাত্র-পাত্রী দেখা নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসব। মাঠজুড়ে মিষ্টি, পিঠা, মাটির তৈজসপত্রের দোকান ও ঢোল-মাদলের তালে ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানই প্রমাণ করে এটি মিলন মেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
বীরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
১১ নং মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরী বলেন,বাসিয়া মেলা আমাদের ঐতিহ্য। এটিকে ‘বউ মেলা’ বলে ছোট করা উচিত নয়।"
১১ নং ওয়ার্ড মেম্বার আজিবুল ইসলাম বলেন,এটি মিলনমেলা, কোনো বউ বিক্রির মেলা নয়। ভুল প্রচার বন্ধ হওয়া উচিত।
জীবনসঙ্গী খোঁজা বিষয়টি মেলার একটি ছোট অংশ, কিন্তু লিফলেট প্রমাণ করে মেলার মূল পরিচয় ‘বউ মেলা’ নয়। ২০০ বছরের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভুল নাম বাদ দিয়ে এর সঠিক নাম বাসিয়া মেলা - আদিবাসী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আত্মমর্যাদা ও সম্প্রীতির মিলনমঞ্চ হিসেবে প্রচার করা জরুরি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত