চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা জেমি: কর্মসংস্থান ১০০ নারীর
মির্জা গোলাম হাফিজ, গাইবান্ধা
সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মেধা ও আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে সাফল্যের পথ বেছে নিয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরান লক্ষীপুর গ্রামের ফাতেমাতুজ্জোহরা জেমি (৩১)। বেকারত্বের হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করে মাত্র ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন হস্তশিল্পের কাজ। আজ তাঁর গড়ে তোলা ‘পুরানলক্ষীপুর এমব্রয়ডারি পল্লী’ ও ‘রায়তা পল্লী ক্রাফট’-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এলাকার প্রায় ১০০ জন নারীর। সুঁই-সুতার নিপুণ কারুকাজে তাঁরা বদলে ফেলছেন নিজেদের ভাগ্য।
জানা গেছে, বিআরডিবি (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর হস্তশিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়েন জেমি। এরপর ক্ষুদ্র ঋণের মূলধন দিয়ে শুরু করেন নকশিকাঁথা, শাড়ি, থ্রি-পিস, ওড়না ও বিছানার চাদর তৈরির কাজ। কাজের পরিধি বাড়তে থাকলে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে উদ্যোগটিকে আরও সম্প্রসারিত করেন তিনি।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে গ্রামের সাধারণ নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ঘরের কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় করে পরিবারের আর্থিক হাল ধরছেন তাঁরা। কর্মীদের নিয়মিত পারিশ্রমিক পরিশোধ করার পরও জেমির মাসিক নিট লাভ থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
সফল নারী উদ্যোক্তা ফাতেমাতুজ্জোহরা জেমি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রায় ১০০ জন নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমার স্বপ্ন—আমার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য ছড়িয়ে পড়ুক দেশজুড়ে।
এ বিষয়ে বিআরডিবির সাদুল্লাপুর উপজেলা কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন জানান, প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে জেমি গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন। প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও বড় অঙ্কের ঋণের সুযোগ পেলে তাঁর এই হস্তশিল্পের উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ স্থান করে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত