শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে —জহির উদ্দিন স্বপন বান্দরবানের লামা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন এমপি নুরুল দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩ কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন বিজিবি রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল ফয়সাল সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দেবে ৮১২১ শিক্ষার্থী মানবিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়ার ঘোষণা তরুণ নোমানের! প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এসিল্যান্ড ও পৌর প্রশাসককে বিদায়ী সংবর্ধনা

দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৭

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬



হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক তুষার হত্যা দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৭

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোঃ আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যা ও রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ছিনতাই হওয়া রিকশার বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে হত্যাকারী এবং অন্যদের ছিনতাইকৃত রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট-খন্দকিয়া বাজার ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোঃ তারেক আজিজের দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। ভুক্তভোগীর বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানের দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভুক্তভোগী ও সন্দেহভাজনদের চলাচলের পথ শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকারীরা বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকার সাদ-মুছা গার্মেন্টস কারখানার সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পেছন থেকে গলায় প্রথমে রশি এবং পরে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ পাশের বিলে ফেলে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ছিনতাই করা অটোরিকশাটি যোগীরহাট, আমানবাজার, বড় দীঘির পাড় ও চৌধুরীহাট হয়ে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাবলু নামের এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে অটোরিকশাটি ঠাণ্ডাছড়ির একটি ওয়ার্কশপে রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা বড় দীঘির পাড়ের একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবারও খায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, হাটহাজারী থানার এসআই আশিকুর রহমান, এসআই তানভীর আহমেদ ও এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় হত্যার ঘটনায় জড়িত ইমরান হোসেন আপন (২৩) এবং ছিনতাই করা অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মোঃ বাবলু (২৫), মোঃ আকতার হোসেন (৩৬), মোঃ মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মোঃ আলাউদ্দিনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হোসেন আপন আরেক সহযোগীসহ হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর হত্যার পরিকল্পনা করে পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর অটোরিকশাটি ভাড়া নেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তুষারকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেটি বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরাও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে মোঃ রাসেল (২৫) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews