
বোচাগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে কাজ করার পরও স্লিপ ফান্ডের টাকা না দেওয়া, হয়রানিমূলক কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) বা তলবের মাধ্যমে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বিভাগীয় মামলার ভয় দেখানো এমনকি সাময়িক বরখাস্তসহ একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ এনে শিক্ষকদের পক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবায়নে শিক্ষকরা যখন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে সচেষ্ট, দিনাজপুর জেলার সকল সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ভিত্তিক পরিদর্শনে বোচাগঞ্জ উপজেলা এক অনন্য স্বাক্ষর স্থাপন করেছে। এছাড়াও দিনাজপুর জেলার FLN (Foundational Literacy and Numeracy) বিষয়ক মূল্যায়নে বোচাগঞ্জ উপজেলা অন্যতম সাফল্য অর্জন করেছে ঠিক তখনই সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব রথীন্দ্রনাথ রায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই তাঁর এহেন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষকরা।
একজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাজ হলো বিদ্যালয় মনিটরিং এবং শিক্ষকদের মেন্টরিং করা, কিন্তু তিনি মনিটরিং ও মেন্টরিংয়ের পরিবর্তে শিক্ষকদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদর্শন করছেন, যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তিনি শিক্ষা অফিসের মধ্যে অন্যান্য সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নিয়ে গ্রুপিং চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগে উঠে এসেছে।
বোচাগঞ্জের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্বে হওয়ার কথা থাকলেও রথীন্দ্রনাথ রায় সদস্য সচিবের দায়িত্বে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ইউনিয়নভিত্তিক বিতরণসহ সকল দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা প্রত্যেকটি প্রশ্নপত্রের সেট গত কয়েক বছরে ২৫ টাকা, ২০ টাকা, ১৫ টাকা এবং সর্বশেষ ১০ টাকা এভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর প্রগতিপত্র ও পঞ্চম শ্রেণির প্রত্যয়নপত্র বেশি দরে শিক্ষকদের কাছে বিক্রি করেন। কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ঘন ঘন পরিদর্শন করে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ফাঁদে ফেলে শোকজসহ সাসপেন্ডের হুমকি প্রদান করেন। এতে নিরীহ শিক্ষকবৃন্দ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না।
বর্তমানে দুটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর কথামতো স্লিপের টাকা না দেওয়ায় তাঁদের ৩০ জুনের মধ্যে টাকা তুলতে দেওয়া হয়নি এবং একজনকে শোকজ করে বিভাগীয় মামলা ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যার ফলে ঐ ভুক্তভোগী শিক্ষক চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। “তাঁর কথা না শুনলে ঐ শিক্ষকের মতো অবস্থা হবে” এমন ভয়-ভীতি দেখিয়ে আরেকজন শিক্ষককে গত অর্থবছরের স্লিপের টাকা তুলতে দেননি, যেখানে তিনি নিজেই বর্তমানে স্লিপের যৌথ অ্যাকাউন্টের সভাপতি।
তিনি বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত সাব-ক্লাস্টারের টাকা শিক্ষকদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সাব-ক্লাস্টারের দিনে শুধুমাত্র শিক্ষকদের দুপুরে খাইয়ে বলেন যে, “আপনাদের সব টাকা খরচ হয়ে গেছে।” বর্তমানে তাঁর এহেন আচরণে সাধারণ শিক্ষকরা অতিষ্ঠ ও ভীত।
এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা অফিসার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত বোচাগঞ্জ শিক্ষা অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগেও ও পরেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করছি। গুটি কয়েকজন শিক্ষক আমার কাছে প্রশ্রয় না পাওয়ায় ও তাঁদের নিজ স্বার্থ হাসিল করতে না পারার কারণে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।