শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ঘোড়াঘাটে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বোচাগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কবিতা/শিক্ষার পরিচয়/লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন! বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ  দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে —জহির উদ্দিন স্বপন টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন! কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন!

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬



গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন: ইয়াবার আসর থেকে বাড়িওয়ালাসহ ২ পাষণ্ড গ্রেফতার

​এমদাদুল হক

​বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই পাষণ্ডকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃতরা হলো— শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার কুশাইকুড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে মো. আনিছুর রহমান (৪৪) এবং গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকার মৃত কানা হামেদের ছেলে ও স্থানীয় বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া (৫২)।

​পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল টেস্ট করানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। তাই আপাতত গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে কড়া পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়া এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, আসামিদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মামলা আদালতে দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রব্বানীর কড়া নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন এসআই আল আমিন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। উত্তর খাইলকুর এলাকায় অভিযুক্তদের বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমানকে তার নিজ কক্ষ থেকেই গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কক্ষের সামনেই অবস্থান করছিল সহযোগী বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া, তাকেও সেখান থেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আনিছুরের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম—গ্যাস লাইট এবং কিছুক্ষণ আগেই ব্যবহৃত ফয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়। আলামত দেখে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশের অভিযানের কিছুক্ষণ আগেই সেখানে ইয়াবা বা মাদকের আসর বসেছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের কাছে বা কক্ষে কোনো মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় পুলিশ মাদক আইনে মামলা রুজু করেনি। শুধুমাত্র ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

​মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী মোছা. মুন্নি আক্তার (৩৮) এবং প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমান উভয়েই উত্তর খাইলকুর এলাকায় ২নং আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে আলাদা রুমে ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশীর সূত্র ধরে একপর্যায়ে আনিছুরের সাথে মুন্নির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে চরম মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

​অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনিছুর ভুক্তভোগীর রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে আনিছুর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনাস্থলে এসে উল্টো ধর্ষক আনিছুরের পক্ষ নেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে স্পর্শকাতর জায়গায় বেধড়ক পেটায়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই নারীর মুখে ও ঠোঁটে মারাত্মক আঘাতের ফলে রক্ত ঝরে, পিঠ ও কোমরের নিচে কালশিটে দাগ পড়ে যায় এবং পায়ের আঙুল ও পাতায় কালচে জখমের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। এমনকি ঘটনাস্থলের মেঝেতেও রক্তের ছোপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নিলে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামিরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

​গুরুতর আহত অবস্থায় মুন্নি আক্তার টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

​গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারীকে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য আগামী রবিবার তাকে হাসপাতালে মেডিকেল টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

​

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সমাজে এখনো একটি বড় সমস্যা। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews