বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ  দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে —জহির উদ্দিন স্বপন টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন! কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত পরিদর্শণে থাকবেন এমপি নুরুল সুনামগঞ্জে ৪৪৪ পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বাউফলে যুবলীগ নেতার বাবা পেলেন সারের ডিলার!  খেরকাটি দ্বি মুখী উচ্চ  বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও বেন্স  সংকট ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান যুবলীগ সভাপতির পুত্র প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে!

বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬



বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার

জাবের আলী, বান্দরবান থেকে —
বান্দরবানের লামায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীকে চার দিন পর চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক দুটি বাসায় অবস্থানরত তিন কিশোরীকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে খুলশী থানার ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিন কিশোরী সেখানে বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিল।

উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরী হলো—লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) ও বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তানিয়া ও সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ছে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকালে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে তানিয়া ও সাদিয়াও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তিনজনের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির পর নিখোঁজ তিন কিশোরীর সন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, তিন কিশোরী চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় অবস্থান করছে। পরে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে খুলশী থানাধীন ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। পৃথক দুটি বাসা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, তারা সেখানে বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিল। তবে কীভাবে তারা সেখানে গেল, কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাল এবং তাদের সঙ্গে কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিন কিশোরীর চট্টগ্রামে গিয়ে অবস্থান করার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তারা আগে থেকে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল কি না কিংবা কারও প্ররোচনা বা সহায়তায় সেখানে গিয়েছিল কি না, তা নিয়েও পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি শর্মা জানান, রেশমি আক্তারসহ তিন কিশোরী তার বিদ্যালয়ে যায়নি। রেশমি আগে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছর সে লামার ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। গত ১২ অক্টোবর রেশমির মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে এসে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।

ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা সর্বশেষ নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে তারা আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহা. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার দুটি বাসা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য সেখানে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews