বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত পরিদর্শণে থাকবেন এমপি নুরুল সুনামগঞ্জে ৪৪৪ পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বাউফলে যুবলীগ নেতার বাবা পেলেন সারের ডিলার!  খেরকাটি দ্বি মুখী উচ্চ  বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও বেন্স  সংকট ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান যুবলীগ সভাপতির পুত্র প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে! মেঘনায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা! আন্ডারপাস নয়, ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ও তুহিন মাহমুদের মানিকগঞ্জের পৌলী আজিজের টিনেরঘর আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ছাই! সংস্কারের অভাবে বেহাল উপজেলার প্রধান সড়ক, দুর্ভোগে মানুষ কক্সবাজার জার্নালিস্ট কো-অপারেশনের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত

যুবলীগ সভাপতির পুত্র প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে!

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬



যুবলীগ সভাপতির পুত্র প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে!

​বিশেষ প্রতিনিধি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের (PWD) নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়নকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিতর্ক ও গুঞ্জন! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর দপ্তর হিসেবে পরিচিত ‘গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ’—যার অধীনে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ—সেখানে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর পারিবারিক পটভূমি গভীর আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

​​অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মোঃ রেজাউল হক মালিক (মুকুল)-এর সন্তান। ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ইং রেজাউল হক মালিক ইন্তেকাল করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাজার পাড়ার বাসিন্দা রেজাউল হক মালিক ছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একজন দাপুটে ও পরিচিত মুখ। পরিবারটি চুয়াডাঙ্গাতে ‘তুখোড় আওয়ামী লীগ পরিবার’ হিসেবেই সর্বজনপরিচিত।

​​সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির জন্য একটি লটারি প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। ওই লটারির মাধ্যমেই স্পর্শকাতর রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন পান রেজা তৈমূর মালিক।

​তবে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই পদায়নকে কেবল ‘লটারির ভাগ্য’ বলে মেনে নিতে পারছেন না। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অতি স্পর্শকাতর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে একজন সরাসরি আওয়ামি লীগ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তানকে বসানো নিয়ে সুশীল সমাজ ও দপ্তরের ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নানান প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​​অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (SDE) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রেজা তৈমূর মালিক নিজস্ব প্রভাব ও দলীয় সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঢাকার সেরা ও লাভজনক উপ-বিভাগগুলোর দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে পদপ্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, “লটারির অজুহাতে এমন স্পর্শকাতর স্থানে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সন্তানকে বসানো কোনো সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। বিগত সরকারের সময়েও তিনি সব ভালো পদ নিজের দখলে রেখেছিলেন।”

​​প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদায়ন অবিলম্বে পুনঃনিরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। নিরপেক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদেরই যেন রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্বে রাখা হয়, সে বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

​

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews