বাউফলে যুবলীগ নেতার বাবা পেলেন সারের ডিলার!
গোলাম কিবরিয়া,বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রহিম খান। তাঁর ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমানে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিদ্দিকুর রহমান গা ঢাকা দেন।
এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বাবাকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। অতি সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আব্দুর রহিম খানসহ বাউফলের ১৬ জনকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের হাতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বাবাকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতারা।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘যাঁকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁর ছেলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন না বলে আমার আশঙ্কা। আমার মতে, তাঁর ডিলার নিয়োগ বাতিল করা উচিত।’
বিএনপি নেতা জামাল মাঝি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে চন্দ্রদ্বীপে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী নির্যাতন ও মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান অন্যতম। তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খানকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় আমরা হতাশ। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানুর রহমান সরদার বলেন,'আব্দুর রহিম খানের সারের দোকান নেই। তিনি আগে কখনো সার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এরপরও তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।'এ নিয়োগের পেছনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিন।
বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে আমি মনে করি।’
অভিযোগের বিষয়ে সারের ডিলার মো. আব্দুর রহিম খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সার ডিলার নিয়োগের নিয়ম-নীতিমালা ২০২৫’ এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত সার ব্যবস্থাপনা ২০২৬’ অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রথম দফায় বাউফল থেকে ৭৩ জন আবেদন করেন। পরে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে আরও ৩৫ জন আবেদন করেন। দুই দফায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮ জনে।
আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা কমিটি উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটি বিধি অনুযায়ী আবেদনগুলো যাচাই করে পুনরায় জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ইউনিয়নভিত্তিক একজন করে মোট ১৬ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, ‘জেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। আমরা বিধি অনুযায়ী সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে সেগুলো পুনরায় জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছি। পরবর্তী কার্যক্রম জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
ছবিতে : গোলা চিহ্নিত আ: রহিম খান সারের ডিলার ও মো: সিদ্দিকুর রহমান সাবেক চন্দ্দদ্বীপ ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে যুবলীগের সাধারন সম্পাদক।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত