বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত পরিদর্শণে থাকবেন এমপি নুরুল সুনামগঞ্জে ৪৪৪ পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বাউফলে যুবলীগ নেতার বাবা পেলেন সারের ডিলার!  খেরকাটি দ্বি মুখী উচ্চ  বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও বেন্স  সংকট ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান যুবলীগ সভাপতির পুত্র প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে! মেঘনায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা! আন্ডারপাস নয়, ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ও তুহিন মাহমুদের মানিকগঞ্জের পৌলী আজিজের টিনেরঘর আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ছাই! সংস্কারের অভাবে বেহাল উপজেলার প্রধান সড়ক, দুর্ভোগে মানুষ কক্সবাজার জার্নালিস্ট কো-অপারেশনের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত

পরিদর্শণে থাকবেন এমপি নুরুল সুনামগঞ্জে ৪৪৪ পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬



সার্বক্ষনিক পরিদর্শণে থাকবেন এমপি নুরুল সুনামগঞ্জে ৪৪৪ পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

আল হেলাল,সুনামগঞ্জ

মৎস্য পাথর বালি ধান আর গানের জনপদ সুনামগঞ্জ জেলায় চলতি বছর মোট ৪৪৪টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তেমনি শহর ও গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে উৎসবের আমেজ। পৌর শহরের সাবেক কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সুনামগঞ্জে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। অন্যদিকে, মৃৎশিল্পীদের কর্মশালায় দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। কোথাও চলছে মাটির কাজ, কোথাও প্রতিমা নির্মাণ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে রং ও অলংকরণের প্রস্তুতি।

তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার সুনামগঞ্জের বাজারগুলোতে তেমন জমেনি পূজার বাজার। নির্ধারিত সময়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ায় বেচাকেনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সুরমা মার্কেট এলাকার কাপড়ের ব্যবসায়ী হাসান মিয়া নানা ধরনের পূজার পোশাকের সংগ্রহ নিয়ে সাজিয়েছেন তার দোকান। কিন্তু অন্য বছরের মতো এবার দোকানে বেচাকেনার ধুম নেই। ফলে অলস সময় পার করছেন তিনি। এর সঙ্গে রাত ১০টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। হাসান মিয়া বলেন, অন্য বছর এই সময়ে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ের শেষ ছিল না। অথচ এ বছর ক্রেতাহীন বাজার।

সেই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ১০টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়েছে। এদিকে, সুনামগঞ্জে পোশাকের দোকানের পাশাপাশি জুতা, জুয়েলারি ও প্রসাধনসামগ্রীর বিক্রিও অন্যান্য বছরের তুলনায় কমেছে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোঃ শামসুল হক। তিনি বলেন, আগে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা হলেও এখন তা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছে। পূজার বেচাকেনা রাতে বেশি জমে। রাত ১০টায় সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একারণে আমরা প্রশাসনকে বলেছি রাতে শহরবাসীকে অন্তপক্ষে পূজার কেনাকাটার সুযোগ দেয়া হউক। পৌর শহরের রায়পাড়ার বাসিন্দা গোপাল রায় বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার অপেক্ষায় থাকি। কখন পূজা আসবে, আর আমরা আনন্দে মেতে উঠব। পূজার কেনাকাটা করেছি তবে বাজারে পোশাকের দাম বেশ চড়া।

শহরের বাসিন্দা সাংবাদিক কুলেন্দু শেখর দাস বলেন, মা দুর্গার আগমন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়। আমরা এবার সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা করব। এদিকে, প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততাও এখন তুঙ্গে। জেলার প্রতিমা তৈরির কারিগর বাউল মুকুল ঠাকুর বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি করছি। ভাদ্র মাস থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করি এবং পূজার আগেই তা শেষ হয়। আগে অর্ডার বেশি হতো, এখন কমে গেছে। কারিগরদের মজুরি দেওয়ার পর তেমন কিছু থাকে না। তারপরও মায়ের প্রতিমা আনন্দের সঙ্গে তৈরি করি। এতে মনে শান্তি পাই।

তিনি বলেন, ‘এটা ভাবতে খুব ভালো লাগে যে আমরা মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ করি। টাকা-পয়সা আমাদের কাছে বড় বিষয় নয়, মন থেকেই কাজ করি।’
পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ কুমার বাপ্পী বলেন, জেলার ১২টি উপজেলায় ৪৪৪টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পূজামন্ডপে পাহারাদার, স্বেচ্ছাসেবক ও সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা প্রতিটি পূজামন্ডপ পরিদর্শনে যাব। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও একটি মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ পদ দাশ বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে পূজা সম্পন্ন করার জন্য শুরু থেকেই প্রতিটি মন্ডপে পাহারাদার, নৈশপ্রহরী ও স্বেচ্ছাসেবক দল রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। পূজা শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু মোবাইল ফোর্স ও কিছু স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন। আশা করছি, সবাই শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পূজা পালন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পর্ব শুরু হবে ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে। আর ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বিজয়া দশমী। এর আগে ১০ অক্টোবর পালিত হয়েছে মহালয়া। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য এডভোকেট শেরেনুর আলী ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু বলেন,এবার আমরা নতুনরুপে বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলা সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলকে নিয়ে সবগুলো পূজামন্ডপ পরিদর্শনের চেষ্টা করবো। কোথায়ও যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর কোন ঘটনা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য দলীয়ভাবে আমাদের সতর্ক প্রহরা অব্যাহত থাকবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews