মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
গোমস্তাপুরে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোড়াঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, কেরু মদসহ গ্রেপ্তার ১৯ আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর বিথী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ( পিবিআই ) কালিহাতীতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠিত দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল লতিফ খান জনপ্রিয়তার শীর্ষে মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত! জলঢাকায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উদযাপিত বিসিএসআইআর রাজশাহী গবেষণাগারে বার্ষিক কর্মশালা ও অংশীজন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠি চাঁদা না দেওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল মেরে রক্তাক্ত করল প্রবাসীর পিতা-মাতাকে

আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর বিথী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ( পিবিআই )

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬



আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর বিথী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ( পিবিআই )

আর কে রুবেল

ঢাকা জেলার আগুলিয়া থানাধীন জামগড়া রূপায়ন হাঠ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় গার্মেন্টসকর্মী বিথী আক্তার (২২)-কে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামি তার স্বামী মোঃ মজনু রাজা (৩৯)-কে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানাধীন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মজনু রাজা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গত ১৩/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৫:৩০ ঘটিকার সময় বিথী আক্তারকে ডাকার জন্য তার মাতা মোছাঃ মেরিনা বেগম তাদের ভাড়া বাসার কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান। পরে তিনি কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে মেয়ের মৃতদেহ গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় খাটের ওপর চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে আগুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গৌঁছে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ বাদশা মিয়া বাদী হয়ে নিহতের স্বামী মোঃ মজনু রাজাকে আসামি করে আগুলিয়া থানায় মামলা নং-৭৭, তারিখ-১৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২ পেনাল কোড দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মোঃ মজনু রাজা পলাতক ছিলেন। পিবিআই ঢাকা জেলা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। মামলাটি পিবিআই এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা ১৬/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এসআই (নিঃ) জুনায়েদ হোসেন কে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তী হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবা এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম-সেবা এর কত্ত্বাবধানে পিবিআই ঢাকা জেলার একটি চৌকস দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর জেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এক পর্যায়ে জানা যায় যে, আসামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে কৌশলে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে গত ০৬/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ২০:৩০ ঘটিকার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানাধীন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী খাসপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ মজনু রাজা (৩৯), পিতা-মোঃ রমজান আলী, মাতা-মোছাঃ মর্জিনা বেগম, সাং-গণেশের খামার (পাউডাংগা বাজারের পশ্চিম পাশে), থানা-পীরগাছা, জেলা-রংপুর কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মোঃ মজনু রাজা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই এর তদন্ত এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায়, নিহত বিথী আক্তার আশুলিয়া থানা এলাকার একটি গার্মেন্টস এ চাকরি করতেন। অপরদিকে, আসামি মোঃ মজনু রাজা গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন শৈলডুবি এলাকার একটি অটোগ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় চার বছর পূর্বে বিথী আক্তার ও মোঃ মজনু রাজা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পর তারা আগুলিয়া থানাধীন জামগড়া রূপায়ন মাঠ এলাকায় বিথী আক্তারের বাবা-মায়ের বাসার পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। আসামি মোঃ মজনু রাজা তার স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। গত ১২/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ২৩:০০ ঘটিকার সময় আসামি মজনু তার গ্যায়েজের কাজ শেষে বাসায় ফেরেন। বিথী আক্তার তার কর্মস্থলের কারও সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করায় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ২৩:৩০ ঘটিকার সময় আসামি মজনু উত্তেজিত হয়ে বিথী আক্তারকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন। পরে খাটের ওপর থাকা তাদের ব্যবহৃত একটি গামছা দিয়ে গলায় শক্ত করে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে দিদী আক্তারের মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান।

পিবিআই ঢাকা জেলায় পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম-সেবা জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews