বাউফলে বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও পরিবারকে অবরুদ্ধের অভিযোগ: ডিসি, এসপিসহ চার দপ্তরে লিখিত নালিশ।
এমদাদুল হক
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বীরপাশা গ্রামের এক গুরুতর অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, গাছ কেটে নেওয়া এবং পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর গ্রহণের সিলমোহরযুক্ত রিসিভ কপি স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বীরপাশা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার হাওলাদার বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শয্যাশায়ী। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে একই এলাকার মো. মালেক খান (৪৫), পিতা—মৃত আব্দুল খালেক খান, বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারের দাবি,
প্রায় ২০ বছর আগে পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ম অনুযায়ী মো. মালেক খানের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে মালেক খান বিক্রি করা অংশের বাইরেও অবশিষ্ট পৈতৃক সম্পত্তির ওপর মালিকানা দাবি করছেন এবং ওই জমি ঘিরে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের বসতভিটা ও পৈতৃক সম্পত্তির স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জমির গাছপালা কেটে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেছেন।
সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য ও নেট দিয়ে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ!
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ পৈতৃক সম্পত্তি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত লিখিত সিদ্ধান্ত ও রোয়েদাদ ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
তবে পরিবারের অভিযোগ, ওই সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মালেক খান বিরোধপূর্ণ জমির চারপাশে নেট বা জালের বেড়া নির্মাণ করেছেন। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বসতভিটা ও পৈতৃক জমিতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য,
জমির সীমানা ও চলাচলের পথ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের কারণে তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে জমির প্রকৃত সীমানা, মালিকানা এবং সালিশের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অস্ত্র প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ!
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মালেক খান ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। পরিবারের কেউ নিজেদের জমিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের খুন বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি
এসব ঘটনার পক্ষে তাঁদের কাছে অডিও ও ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
সাংবাদিকদের হাতে রিসিভ কপি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি।
অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার হাওলাদারের পক্ষে তাঁর ছেলে মো. মাইনুল ইসলাম ইমন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে সশরীরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও এবং বাউফল থানার ওসির কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর গ্রহণের সিলমোহরযুক্ত রিসিভ কপি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে—
১. দ্রুত তদন্ত: চার দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. জমি উদ্ধারের উদ্যোগ: অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করে অবৈধভাবে নির্মিত বেড়া অপসারণ এবং বৈধ মালিকের জমির অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. জমির অবস্থা সংরক্ষণ: তদন্ত চলাকালে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিরোধপূর্ণ জমির অবস্থা পরিবর্তন বা নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা: বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
দেশের স্বাধীনতায় অবদান রাখা একজন অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষায়, অনুসন্ধান অব্যাহত,এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। জমির দলিলপত্র, রেকর্ড, অভিযোগের অনুলিপি, স্থানীয় সালিশের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও বাউফল থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি এক নয়; তাই তদন্তের ফলাফল ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে থাকছে মালেক খা পরিবারের ইতিহাস এ ঘটনার পাশাপাশি মো. মালেক খা পরিবারের অতীত ইতিহাস, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ তুলে ধরা হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত