শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বাউফলে মরা-অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ,কেজি ৭৫০ টাকা খোকসায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার দুই বছরের অধিক সময় পর চাঞ্চল্যকর রাহুল হত্যাসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন পিবিআই , দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল আল আমিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে গোবিন্দগঞ্জে সীমানা প্রাচীর বিরোধে প্রতিপক্ষের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু  বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ স্বপদে বহাল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাঈম মাহমুদ অপপ্রচার ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি কুমিল্লায় ‘খ’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ওসি মেঘনা থানার শহীদুল ইসলাম ​সমাজে বিষফোঁড়া ‘কিশোর গ্যাং : স্পট, অপরাধের ধরন, আইনি পদক্ষেপ ও উত্তরণের উপায়!

বাউফলে মরা-অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ,কেজি ৭৫০ টাকা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬



বাউফলে মরা-অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ,কেজি ৭৫০ টাকা

গোলাম কিবরিয়া,বাউফল (পটুয়াখালী) 

পটুয়াখালীর বাউফল পৌর বাজারের কসাইখানায় রাতের আঁধারে অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু জবাই করে সকালে সেই মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বাজারের আনোয়ার মুন্সীর কসাইখানায় একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ওই গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, গরুটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এটি ছিল হাড্ডিসার ও রোগাক্রান্ত। গরুটির মুখ থেকে লালা পড়ছিল এবং খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। জবাইয়ের আগে তিনি মোবাইল ফোনে গরুটির ছবি তুলে রাখেন। পরে সকালে ওই গরুর মাংস বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মাংস বিক্রেতা অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু সংগ্রহ করে গভীর রাতে জবাই করেন। পরে সকালে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সেই মাংস বিক্রি করা হয়। ফলে ক্রেতারা না জেনেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাংস কিনছেন।

এর আগে কয়েকদিন আগে বাউফল হাইস্কুল রোডের গোলাবাড়ি এলাকায় একটি কসাইখানায় টমটমে করে একটি মরা গরু এনে নামানোর সময় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে সেটি রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি একটি মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ পেয়ে গোলাবাড়ি এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরা গরুটি টমটমে করে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

বাউফলে প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে মাংস বিক্রি
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাউফল পৌর বাজারে তিনটি, গোলাবাড়িতে একটি, বাংলাবাজারে একটি এবং কালাইয়া বন্দর, আদাবাড়িয়ার কাশিপুর, বগা বন্দর, কালিশুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে গরুর মাংস বিক্রি করা হয়। এতগুলো পয়েন্টে নিয়মিত গরুর মাংস বিক্রি হলেও জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জবাইয়ের পর মাংস পরীক্ষা কতটা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু জবাইয়ের আগে অ্যান্টি-মর্টেম বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পশুর শারীরিক অবস্থা, পুষ্টি, চলাফেরা, খোঁড়াভাব, চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে অস্বাভাবিক তরল বা লালা বের হওয়া, শরীরের তাপমাত্রা, চামড়া ও পশমের অবস্থা এবং সংক্রামক রোগের লক্ষণ পরীক্ষা করার কথা। গরু অতিরিক্ত দুর্বল, অপুষ্ট বা গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা সংক্রামক রোগের লক্ষণ থাকলে সেটিকে জবাইয়ের অনুমতি না দেওয়ার কথা। জবাইয়ের পরও মাংস ও কলিজা, ফুসফুসসহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করে তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া কসাইখানার পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির স্থানও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার বলেন, ‘আমাদের জনবল কম থাকায় আমরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মিটিংয়ে বাউফলের সব কসাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করার পর এ পর্যন্ত কোনো কসাইখানায় গরু জবাই দেওয়ার সময় আমার দপ্তর থেকে কোনো কসাই সার্টিফিকেট নেয়নি।’

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালে আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। বুধবার রাতে এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও আমি শিগগিরই কসাইখানায় গরু জবাইয়ের সময় নিজে উপস্থিত থেকে বিষয়টি দেখব।’

অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু জবাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাউফল বাজারের কসাইখানা মালিক আনোয়ার মুন্সি। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অসুস্থ বা হাড্ডিসার গরু জবাই করি না।’তবে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাঁর কসাইখানায় একটি অসুস্থ, হাড্ডিসার ও খোঁড়া গরু জবাই করা হয়েছে, এমন ছবি দেখানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের দাবি, অসুস্থ কিংবা মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বাউফলের সব কসাইখানা ও মাংস বিক্রির পয়েন্টে নিয়মিত পশু ও মাংসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্যাপশন -বাউফল পৌরসভার বাজারে আনোয়ার মুন্সির কসাইখানা বুধবার গভীর রাতে এই হাড্ডিসার অসুস্থ খোরা গরুটি জবাই করে সকালে ৭৫০ টাকা তরে মাংস বিক্রি করা হয়। –

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews