রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাঠ পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জের বেউথা কালীগঙ্গা নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে ‘অপ-সাংবাদিকতা’ বন্ধে ব্যবস্থা চেয়ে ভূমিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা আউটসোর্সিং নীতিমালার আত্মঘাতী সংশোধন! জৈন্তাপুরে বড়গাং নদীর পানিতে পড়ে বারকি শ্রমিকের মৃত্যু শরীয়তপুরে ভেস্তিতো এক্সপোর্ট কোয়ালিটি ফ্যাশন মার্টের উদ্বোধন নরসিংদীতে ২০০ বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধ নিয়ে দ্বন্দ্ব! মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস স্মৃতিবিদ্যায়তন ৯৬ ব্যাচের নৌভ্রমণ অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোস্তফা কামালের উদ্যোগে  র‍্যালি ও মশক নিধন অভিযান দিনাজপুরে সবজির বাজারে স্বস্তি, তবে হাসি নেই কৃষকের মুখে!

আউটসোর্সিং নীতিমালার আত্মঘাতী সংশোধন!

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬



আউটসোর্সিং নীতিমালার আত্মঘাতী সংশোধন: ১৮০০ উদ্যোক্তা ধ্বংস, নেপথ্যের ইন্ধন ও রাজনৈতিক বিস্ফোরণের অশনিসংকেত​!

— এ টি এম ফিরোজ মন্ডল​

দৃষ্টিপাত:

এক রাতের একতরফা আদেশে বন্ধ হচ্ছে ১৮০০ নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি দপ্তরে সেবারত ৬ লাখ আউটসোর্সিং কর্মীর পরিবার। তদারকিহীন এ হঠকারী সিদ্ধান্তের সুযোগে সচিবালয় ঘেরাও ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।​রাষ্ট্র পরিচালনার গতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখা, সেবামূলক কাজের প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার দূরদর্শী লক্ষ্য থেকেই প্রায় দুই দশক আগে বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরগুলোতে আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণ পদ্ধতির সূত্রপাত ঘটেছিল। বিগত ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো জারি করা হয় “আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে সেবা গ্রহণ নীতিমালা”। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এ নীতিমালায় যুগোপযোগী সংস্কার এনে সেবা প্রদানকারীদের সমুদয় পারিশ্রমিক সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয় এবং সরবরাহকারী ঠিকাদারদের জন্য কেবল সরকার নির্ধারিত কমিশনের ব্যবস্থা রেখে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আরও স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে জারি করা হয়েছিল “আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫”।  ​

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অতি সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কোনো পূর্বঘোষণা, বিকল্প প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা কিংবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে ন্যূনতম কোনো সংলাপ ছাড়াই গত ২১ সেপ্টেম্বর এক আকস্মিক সংশোধনী জারি করেছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে নতুন সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও বারিত করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ রুটিন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস মনে হতে পারে, কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে—এ একতরফা ও হঠকারী সিদ্ধান্তটি দেশের আইনের শাসন, শত শত কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ কর্মী এবং সরকারি দপ্তরে সেবারত ৬ লাখ আউটসোর্সিং কর্মচারীর পরিবারসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ করে এমন একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপের নেপথ্যে কার স্বার্থ কাজ করছে এবং কারা এই ক্ষোভকে সরকারের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে?  ​

বিদ্যমান শ্রম আইনের সঙ্গে প্রকাশ্য সাংঘর্ষিকতা​

রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার সাথে এ সিদ্ধান্তের সংঘাত সবচেয়ে স্পষ্ট। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধনপূর্বক ধারা ৩(ক) সংযোজন করা হয়েছিল। উক্ত ধারায় সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয় যে, আউটসোর্সিং সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে যথাযথ লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুসরণ করে নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি, নিরাপত্তা জামানত এবং কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে সরকারি অর্থ জমা দিয়ে পুরোপুরি আইনানুগভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।  ​

অথচ বিদ্যমান এই মূল শ্রম আইনের কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধনী ছাড়াই কেবল অর্থ বিভাগের একটি নির্বাহী স্মারকের মাধ্যমে লাইসেন্সধারী বেসরকারি খাতকে বাজার থেকে উৎখাত করা হয়েছে। কোনো আইনগত ক্ষমতা ছাড়া একটি প্রশাসনিক স্মারকমূলে একটি সম্পূর্ণ বৈধ পেশাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত।  ​

১,৮০০ নিবন্ধিত উদ্যোক্তা ও ২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপর্যয়​!

দেশে বর্তমানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ১,৮০০ আউটসোর্সিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের একমাত্র ধরন ও কাজের পরিধি হলো আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে সেবা ও জনবল সরবরাহ করা—তাদের বিকল্প কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক বা নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি করার লাইসেন্স নেই।  ​

গত দুই দশকে এই খাতে উদ্যোক্তারা শত শত কোটি টাকার মূলধন, আঞ্চলিক কার্যালয়, ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো এবং মানবসম্পদ পরিচালনায় বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। এই প্রায় ১,৮০০টি প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত আছেন প্রায় ২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী (সুপারভাইজার, একাউন্ট্যান্ট, এইচআর ও ফিল্ড অফিসার ইত্যাদি), যারা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত। হঠাৎ করে সেবা ক্রয় বন্ধ করে দেওয়ায় লাইসেন্সধারী এই প্রতিষ্ঠানগুলো রাতারাতি দেউলিয়া হয়ে যাবে এবং এর সাথে জড়িত ২ লাখ কর্মী এক মুহূর্তের নোটিশে সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পরিবার-পরিজনসহ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। একদিকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত কর ও ভ্যাট দেওয়া পুরোনো ১,৮০০ উদ্যোক্তা ও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এভাবে পথে বসিয়ে দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক ও নজিরবিহীন।  ​

পুল কোট / বিশেষ উদ্ধৃতি:

“যেখানে প্রচলিত শ্রম আইন মেনে ১৮০০ উদ্যোক্তা নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিচ্ছেন, সেখানে কোনো বিকল্প না রেখে নির্বাহী আদেশে একটি শিল্পকে ধসিয়ে দেওয়া বিনিয়োগবান্ধব নীতির পরিপন্থী।”​

৬ লাখ কর্মচারীর স্থায়ীকরণের আন্দোলন ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা​!

বেসরকারি চ্যানেল বন্ধের সবচেয়ে মারাত্মক প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়াটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বেসরকারি তদারকি কাঠামো হঠাৎ ভেঙে দেওয়ায় বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৬ লাখ আউটসোর্সিং কর্মচারী এখন “ঠিকাদারি দাসত্ব থেকে মুক্তি”র নামে নিজেদের বয়স শিথিল করে সরাসরি স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে চাকরি স্থায়ী বা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির একদফা দাবিতে রাজপথে সংগঠিত হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ব্যানার ও প্রচারণায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে—দেশের ৬ লক্ষ পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে আউটসোর্সিং প্রথা বিলোপ করে সরাসরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইতিপূর্বে সচিবালয় ঘেরাও বা মাঠ প্রশাসন অচল করে দাবি আদায়ের যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠীও ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছে। রাজস্ব খাতের বর্তমান সীমিত পরিসরে হঠাৎ করে ৬ লাখ অস্থায়ী কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের অযৌক্তিক ও অসম্ভব দাবি মেনে নেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। ফলে এ সিদ্ধান্ত সরকারকে কর্মচারীদের তীব্র প্রশাসনিক ব্ল্যাকমেইল ও মুখোমুখি রাজপথের সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।  ​

নেপথ্যের ইন্ধন: আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট বনাম “আইআইএফসি” বিতর্ক​

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসলে কার লাভ এবং কার ইন্ধন রয়েছে, তা এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। বেসরকারি খাতকে রুদ্ধ করার সাথে সাথেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বা আধা-সরকারি সংস্থা (যেমন আইআইএফসি)-এর মাধ্যমে জনবল সংগ্রহের একটি বিকল্প রূপরেখা সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি ১,৮০০ ঠিকাদারের স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বন্ধ করে মূলত একটি বিশেষ আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট পুরো আউটসোর্সিং খাতের বাজেট, তদারকি ও কমিশন নিজেদের বলয়ে কুক্ষিগত করার কূটকৌশল এঁটেছে।  ​

কিন্তু এই কৌশল যে কোনো সুফল আনতে পারছে না, তার প্রমাণ মিলছে খোদ কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়ায়। কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিষয়টিকে “আমলাতান্ত্রিক ঠিকাদারি” এবং “নতুন মোড়কে শোষণ” হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে বয়কটের ডাক দিচ্ছে। অর্থাৎ, বেসরকারি খাত বাতিল করে তথাকথিত সরকারি বা আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে বসানোর অপচেষ্টা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ক্ষোভ কমাতে তো পারেইনি, বরং সরকারি সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের নতুন করে দুর্নীতির অপবাদ ও তীব্র অসন্তোষের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সাথে কর্মী সংগঠনের কতিপয় সুবিধাবাদী নেতা কর্মচারীদের আবেগ ও ‘স্থায়ীকরণের স্বপ্ন’কে পুঁজি করে নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব বাড়াতে পেছনের দরজা দিয়ে এই অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে।  ​

সেবার মানে ধস এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতি​!

সচিবালয়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর পরিচ্ছন্নতা, সশস্ত্র ও সাধারণ নিরাপত্তা, পরিবহন ও আইটি সহায়তার মতো স্পর্শকাতর কাজগুলো এই আউটসোর্সিং জনবল দ্বারাই পরিচালিত হয়। নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও ব্যর্থতায় চুক্তি বাতিলের দায়বদ্ধতা থাকার ফলেই এত দিন এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খলভাবে চলত।  ​

তদারককারী প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম ছাড়া সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই বিশাল বহর পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে ধস নামা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়া, নিবন্ধিত এই ১৮০০ প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার প্রতি বছর নিয়মিত যে বিপুল অঙ্কের ভ্যাট, প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায় করত, সরকারি কোষাগার সেই বিশাল রাজস্ব থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত হবে।  ​

রাজপথে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ !

এই হঠকারী সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় জাতীয় ঝুঁকিটি রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে। একদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়ার মুখে, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মরত ৬ লাখ কর্মচারী স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজপথে নামার উপক্রম হয়েছে। অর্থনৈতিক এই চরম টানাপোড়েন ও ক্ষোভকে কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ, বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

​তারা এই ক্ষুব্ধ, বঞ্চিত ও দিশেহারা মানুষকে রাজপথে নামিয়ে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ খুঁজছে। নিজেদের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট এই অসন্তোষের আগুনে যদি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের রাজনৈতিক জ্বালানি সরবরাহ করে, তবে সেই দাবানল ও রাজনৈতিক বিস্ফোরণ সামলানো সরকারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।  ​

শেষ কথা ও দাবি​

রাষ্ট্রের যেকোনো প্রশাসনিক সংস্কার অংশীজনদের সাথে খোলামেলা আলোচনা, বিদ্যমান শ্রম আইনের সাথে সামঞ্জস্য এবং বাস্তবসম্মত টেকসই বিকল্প নিশ্চিত করার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোনো উপযুক্ত রূপরেখা ছাড়া লাখ লাখ পরিবারের জীবিকাকে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেওয়া, আইনের ব্যত্যয় ঘটানো এবং বৈধ উদ্যোক্তাদের ধ্বংস করে কোনো সংস্কার কখনোই টেকসই সুফল আনতে পারে না।  ​দেশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সেবার মান রক্ষা করা এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় প্রতিহত করতে অর্থ বিভাগের উচিত গত ২১ সেপ্টেম্বর জারিকৃত বিতর্কিত ও একতরফা সংশোধন অবিলম্বে রদ, রহিত ও বাতিল ঘোষণা করা। নীতিনির্ধারকদের এখনই বাস্তবমুখী হতে হবে এবং ভুক্তভোগী লাইসেন্সধারী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আলোচনার টেবিলে ডেকে একটি সমন্বিত, আইনি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।  ​(লেখক: বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আউটসোর্সিং খাত বিশ্লেষক)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews