সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কালিহাতীতে ১০৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভাঙন, চলছে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসানকে অপহরণের ৪ ঘন্টা পর হত্যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য  ঢাকা বনানীতে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য সত্যি শিহরণ জাগানোর মতো বিদেশে পাঠানোর পর নির্যাতন ও জিম্মির অভিযোগ সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবির পাঁচ দিন পর নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে নৌপরিবহন মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান দীঘিনালায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন ঘোড়াঘাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১২০ বস্তা চাল জব্দ: ব্যবসায়ী আটক

বিদেশে পাঠানোর পর নির্যাতন ও জিম্মির অভিযোগ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬



বিদেশে পাঠানোর পর নির্যাতন ও জিম্মির অভিযোগ

মাসুক আহমদ, জৈন্তাপুর (সিলেট) 

জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও তার কন্যা খালিদা বেগম এবং ঢাকার বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী আহসান হাবিব সুমনের বিরুদ্ধ গৃহকর্মী ভিসা সহ বিভিন্ন ভিসায় নারী-পুরুষদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে লোক পাঠিয়ে প্রতারনা করে আসছে।

এই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বহু প্রবাসী সহ স্থানীয় অনেকের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। খালিদার পিতা আব্দুল মান্নান বিভিন্ন সময়ে তার কন্যাকে ব্যবহার করে স্থানীয় ও প্রবাসীদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করে আসছে।

বিগত ২০২৫ সালে এক প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে যার নং-২৮। এই মামলা তদন্ত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনার বিষয়ে কোন সত্যতা খোজেঁ পায়নি। গৃহকর্মী ভিসা সহ বিভিন্ন ভিসায় নারী-পুরুষদের বিদেশ পাঠিয়ে নানা প্রতারনার কাজে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আদালতে কয়েক জন ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

চারিকাটা ইউনিয়নের সরুখেল পশ্চিম গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল নূর বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট ৩ য় আদালত সিলেট-এ গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে আব্দুল মান্নান ও তার কন্যা খালিদা বেগম তার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম এবং আহসান হাবিব সুমনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বিবাদীরা একে অপরের আত্মীয় হওয়ায় বাদীর ছেলে আব্দুর রহমানকে ৪ লাখ, ৫০ হাজার টাকায় একটি চুক্তি নামার মাধ্যমে বিদেশ (সৌদি আরব) পাঠান।

চুক্তি অনুযায়ী মাসিক বেতন সহ অন্যান্য আরও সুযােগ-সুবিধা দেওয়ার কথা ছিলে। সেখানে যাওয়ার পর তার সাথে প্রতারনা করা হয়। আহসান হাবিব সুমন সহ সঙ্গীরা সৌদি আরবে আব্দুর রহমানকে একটি ঘরে আটক রেখে দেশে তার পরিবারের নিকট ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল মুক্তিপন দাবী করেন।এছাড়া চারিকাটা ইউপি সদস্য হাজির আলী মেম্বারের পুত্র মাহদিকুর রহমানকে সৌদি আরব নিয়ে কথা মত চাকুরী দেওয়া হয়নি। তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এলাকায় এই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সালিশ বিচার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিন মাস পরে স্থানীয় এক প্রবাসী তাকে উদ্বার করেন। এভাবে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রবাসীকে জিম্মি করে ভিডিও ধারণ করে হুমকি দিয়ে মুক্তিপন আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

জানাগেছে,খালিদা বেগম বহু বিবাহিত তার একাধিক স্বামী রয়েছে। ঢাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব সুমনও তার স্বামী। সুমন তিনিও একাধিক বিয়ে করেছেন তারও কয়েকজন স্ত্রী রয়েছে। গ্রামের সহজ সরল নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে নিয়ে যান। খালিদা বেগমের মাধ্যমে স্থানীয় ভাবে তাদের একটি দালাল চক্র গড়ে উঠে।

বিদেশে নারীদের ব্যবহার করে কৌশলে অনেক প্রবাসী বাঙ্গালীদের ভিডিও ধারণ করে তাদের সাথে প্রতারনা করে মুক্তিপন আদায় করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। অনেকেই মান সম্মান ইজ্জত ও সামাজিক আত্মমর্যাদার ভয়ে তা প্রকাশ করেন নাই। আব্দুল মান্নানের ছেলে-মেয়েরা অনেকেই বহু বিবাহিত। চারিকাটা লালাখাল চা-বাগান সংলগ্ন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ধীরেন্দ্র দাসের পুত্র মাসুক আহমদ ধর্মান্তরিত হয়ে আব্দুল মান্নানের কন্যাকে বিয়ে করেন। এই সুযোগে মাসুক আহমদের বোন শিপরা দাসকে কৌশলে বিদেশ প্রাচারের চেষ্টা করে মান্নান ও তার মেয়ে খালিদা বেগম।

এতে মাসুক আহমদ অনিহা প্রকাশ করলে আব্দুল মান্নান তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন সহ একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী মাসুক আহমদ ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবার প্রতারক মান্নান ও তার কন্যা খালিদা বেগম, ঢাকার আহসান হাবিব সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করে, যার মামলা নং-২৮০/২০২৫ খ্রি:।

এছাড়া নয়াখেল পূর্ব গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল হকের কন্যা রুমানা বেগম (৩৩) চলিত বছরের গত ২১ জুলাই সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আব্দুল মান্নান ও তার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম, তার কন্যা খালিদা বেগম সহ পরিবারের অন্যান্য আরও ৭জন সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, জাহাঙ্গীর আলমের সাথে রুমানা বেগমের কাবিননামা বিহীন বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর রুমানা বেগম জানতে পারেন জাহাঙ্গীর আলমের পূর্বের আরও দুই’টি স্ত্রী রয়েছে। তার বোন খালিদা বেগমের সহযোগিতায় তাকে মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী ভিসায় পাঠাতে চাপ প্রয়োগ করে। এতে রাজী না হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে জাহাঙ্গীর আলম তালাক দেয়।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, আহসান হাবিব সুমনের একাধিক স্ত্রী রয়েছেন,তার বাড়ি ঢাকার ফোর্ডনগর ধামরাইল ধামরাজ-১৩৫০। তিনি এই এলাকার ওয়ালী উল্লার পুত্র।

বিদেশে নারী-পুরুষ সহ মানবপ্রাচার কাজে জড়িত রয়েছেন। তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নং-অ০ ৩৩৪৭২১৮ । তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার, পিতা আজমল হোসেন, বাড়ি নং-১০৬০, ফোর্ডনগর, ধামরাই চৌরা-১৩৫০, ঢাকা। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নং- অ০৩৪৭৮৫৪৯।

আর অপর স্ত্রী পরিচয়ে খালিদা বেগমের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নং-অ১৬৯১৯৫৩৫, পূর্বের পাসপোর্ট নং-ঊঐ০৩৫৪১০৫। আর ২০১৪ সালের পাসপোর্ট নং-ইই ড়৬৭২৮০২। খালিদা বেগম ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওমন সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছিলেন। এই সময়ে বহু প্রবাসীর সাথে প্রতারনা করে ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি এবং হুমকি দিয়ে ঢাকা পয়সা আত্মসাৎ করে এবং ভুয়া ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করেন।

চারিকাটা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিগণ এবং চতুল বাজারের গন্যমান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ খালিদা বেগম ও তার পিতা আব্দুল মান্নানের বিভিন্ন সময়ের নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিক সালিশ বিচার করেছেন।

এ বিষয়ে আব্দুল মান্নান ও তার কন্যা খালিদা বেগমের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৩৫৭-১৩৯২০৭-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews