সুনামগঞ্জে মামলার বিধিনিষেধ অমান্য করে ১২ শতক ভিটেবাড়ীর জায়গা দখলের অভিযোগ!
আল হেলাল,সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন হাসননগর আবাসিক এলাকায় আদালতে দায়েরকৃত ১৬৪/২০২৬ নং স্বত্ত মামলার বিধিনিষেধ অমান্য করে ১২ শতক ভিটেবাড়ীর জায়গা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মাহবুব আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে চলমান ১৬৪/২৬ নং স্বত্ত মামলায় বিধিনিষেধ থাকা স্বত্তেও শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই ভিটেবাড়ীর জায়গায় ১টি টিনের ঘর নির্মাণ ও বাঁশের কঞ্চির বেড়া দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে দখলবাজী চালানো হয়। নতুন হাছননগর নিবাসী ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ ইয়ারুন নেছার অভিযোগ,প্রায় ৩৪ বছর আগে তারা মূল রেকর্ডীয় মালিক শহরের তেঘরিয়া নিবাসী মকবুল আলীর কাছ থেকে ২২৭৫/১৯৯২ নং সাবরেজিষ্ট্রি দলিলমূলে ক্রয়সূত্রে ১ একর ৯ শতক জায়গা দখলে নিয়ে ঐ জায়গায় ভিটেবাড়ী ও মসজিদ নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে শান্তিপূর্ণ ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু শুক্রবার প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় দেড় শতাধিক ভাড়াটে লোকজন নিয়ে মাহবুব আলম ও তার সহযোগীরা সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে সন্ত্রাসের মহড়া ও দাপট প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ১টি টিনের ঘর নির্মাণ ও বাঁশের কঞ্চি দ্বারা বেড়া দিয়ে তাদের জায়গা দখল করে নেন। এ ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় শুক্রবার তাৎক্ষনিকভাবে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি জবর দখলকারীর বিরুদ্ধে।
এদিকে মেসার্স সওদাঘর ব্রিকস এর স্বত্তাধিকারী মোঃ মাহবুব আলম বলেন,কারো ভিটেবাড়ীর জায়গা জবর দখলের প্রশ্নই আসেনা,আমি আমার নিজের ক্রয়কৃত জায়গায় এলাকার প্রায় ২ শতাধিক লোকজনের উপস্থিতিতে ঘর তুলেছি। স্থানীয় রসুলপুর মৌজার আরএস ৪১২ ও এসএ ৭৪ নং খতিয়ানের এবং আরএস ৩৯ ও এসএ ৭৯ নং দাগের ১২ শতক আমন জমি ১১৫৪/২০২৫নং সাবরেজিষ্ট্রি দলিলমূলে তাহিরপুরের আলী মিয়াগং আমার কাছে বিক্রয় করে দখল সমজিয়ে দিয়েছেন। গত ২২/৭/২০২৬ইং তারিখে ১০০০-৩৪ নং নামজারী মোকদ্দমামূলে ঐ জায়গাটুকু আমার নামে নামজারী হলে আমি হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পর্যন্ত পরিশোধ করেছি। রেকর্ডের মূল মালিক তেঘরিয়া আবাসিক এলাকা নিবাসী মকবুল আলী ১ একর ৯ শতক জায়গা ২২৭৬/১৯৯২ নং দলিলমূলে বর্ণিত জায়গা বিন্নাকুলি নিবাসী আব্দুল কাইয়ূমের কাছে বিক্রয় করেন। সিরাজুল ইসলাম ও আব্দুল কাইয়ূম একে অপরের আপন ভাই। একই দিনে একই সময়ে পৃথক দুটি ২২৭৫ ও ২২৭৬ নং দলিলমূলে তারা দুই ভাই এ জায়গা ক্রয় করেন। এর মধ্যে উভয়ের দলিলের চৌহদ্দিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে সিরাজুল ইসলাম ঐ দাগভূক্ত জায়গার পশ্চিম দিকে এবং আব্দুল কাইয়ূম পূর্বদিকের জায়গা দলিলমূলে সমজিয়ে নিয়েছেন। সিরাজুল ইসলাম তার জায়গায় ঠিকই অবস্থান গ্রহন করছেন। কিন্তু তার বড় ভাই নিজের অংশের পুরো ১ একর ৯ শতক জায়গা বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিক্রয় করেছেন। আমার জায়গার অবস্থানও ঠিক পূর্বদিকেই আছে। আমি সার্ভেয়ার দ্বারা সঠিকভাবে পরিমাপ করে আমার ক্রয়কৃত জায়গায় ঘর বানিয়েছি। মরহুম আব্দুল কাইয়ূমের ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম অন্যায়ভাবে আমাকে বাধা প্রধান করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় এ পর্যন্ত ২টি জিডি ও সর্বশেষ শুক্রবার অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ প্রশাসনকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে পুলিশফোর্স নিয়ে গেলে আমি তাকে আমার কাগজপত্রসহ যাবতীয় ডকুমেন্টস দেখিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি কারো হয়রানীমূলক অভিযোগে আমার ঘরের কাজ বন্ধ করতে হলে আপনারা আমাকে লিখিত আদেশ দেন আমি সরে যাবো। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আমাকে ঘর তৈরীর কাজে লিখিতভাবে কোন বিধিনিষেধ না দেয়ায় আমি স্বেচ্ছায় আমার ক্রয়কৃত জায়গায় ঘর উত্তোলন করি। এসময় সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নতুন হাছননগর এলাকায় কোন ধরনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। মাহবুব আলম বলেন,বিজ্ঞ আদালত হতে এখন পর্যন্ত আমি কোন নোটিস বা সমন পাইনি। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন,তারপরও আমি অভিযোগকারী পক্ষকে বলবো তারা নিজেরা সার্ভেয়ার এনে সঠিকভাবে জায়গা চিহ্নিত ও পরিমাপ করে যদি আমার দখলে তাদের এক ইঞ্চি পরিমান জায়গা পান অথবা আমার ক্রয়কৃত জায়গার দলিল ও নামজারী মিথ্যে প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি স্বেচ্ছায় আমার জায়গা তাদেরকে ছেড়ে দেব। থানায় দায়েরকৃত জিডি ও অভিযোগের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বিষোদগার ও অপপ্রচার থেকে বাদী সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ জানান ব্যবসায়ী মাহবুব আলম।
অন্যদিকে ঘটনার পর ভূক্তভোগী ঐ পরিবারটি চরম আতংকের মধ্যে রয়েছেন। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ ইয়ারুন নেছা হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে ঘটনার জন্য ব্যবসায়ী মাহবুব আলমকে দায়ী করে,দখলবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত